শার্শায় নিয়ন্ত্রণহীন সারের বাজার,চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইউরিয়া-ডিএপি-টিএসপি

সরকারের মূল্যতালিকা উপেক্ষা করে খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করায় চলতি মৌসুমে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা

0

আজিজুল ইসলাম, বাগআঁচড়া (যশোর), লোকসমাজ :মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাজার তদারকি ও মনিটরিংয়ের অভাবে যশোরের শার্শা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ বাজারে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে রাসায়নিক সার। সরকারের মূল্যতালিকা উপেক্ষা করে খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করায় চলতি মৌসুমে চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা বাজারে প্রতি কেজি ইউরিয়া সার ৩১ থেকে ৩২ টাকা, পটাশ ২৩ থেকে ২৫ টাকা, ডিএপি ৩২ থেকে ৩৩ টাকা, মরক্কোর টিএসপি ৩৫ টাকা এবং তিউনিশিয়ার টিএসপি ৪৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা ডিলারদের কাছ থেকেই তুলনামূলক বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিক্রেতা জানান, বর্তমানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, পটাশ ১ হাজার ৮০ টাকায়, ডিএপি ১ হাজার ৫০০ টাকায়, মরক্কোর টিএসপি ১ হাজার ৬৫০ টাকায় এবং তিউনিশিয়ার টিএসপি ২ হাজার ১৫০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনে সারের দাম আরও বাড়তে পারে। অথচ গত মার্চ মাসেও এসব সারের দাম বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কম ছিল। কয়েক মাসের ব্যবধানে এমন মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে।

কৃষকদের দাবি, গ্রামীণ বাজারগুলোতে নিয়মিত সরকারি মনিটরিং জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে সারের বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি বা সিন্ডিকেট থাকলে তা দ্রুত ভেঙে দিয়ে কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, “কোনো কৃষক বা ভোক্তা যদি ডিলার বা খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”