শার্শায় ফিলিং স্টেশনের মালিকানা দ্বন্দ্ব পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নে ‘মেসার্স গোলাম কিবরিয়া ফিলিং স্টেশন’ নামের একটি পেট্রোল পাম্পের মালিকানা নিয়ে চরম উত্তেজনা ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। পাম্পটির মালিকানা দখলের অভিযোগ এনে আনোয়ার হোসেন ওরফে আয়নাল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা গোলাম কিবরিয়ার কন্যা তনিমা তাসনুমা।

রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তনিমা লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, তার বাবা ১৯৯৫ সালে বাগআচড়া মৌজায় ১৭ শতক জমির ওপর এই ফিলিং স্টেশনটি প্রতিষ্ঠা করেন। বাবার মৃত্যুর পর ২০২২ সাল থেকে পরিবারটি আইনগতভাবে ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং প্রশাসনিকভাবে মালিকানা হালনাগাদ করা হয়েছে।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে তনিমা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আনোয়ার হোসেন পাম্পটি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছেন। তিনি জাল দলিল ও ভুয়া কাগজ তৈরি করে সম্পূর্ণ ভুয়া মালিকানা দাবি করছেন। এমনকি এক বিচারকের স্বাক্ষর নকল করে কাগজ তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর আনোয়ার হোসেন তার লোকজন নিয়ে পাম্পে প্রবেশ করে ম্যানেজারকে জোর করে বের করে দেন এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, চাবি ও অন্যান্য জিনিসপত্র জব্দ করেন। পরে পুলিশে অভিযোগ জানানো হলে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকে আনোয়ার হোসেন নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ১৯৯৯ সালে তিনি মূল মালিক গোলাম কিবরিয়ার কাছ থেকে জমিসহ ফিলিং স্টেশনটি ৬ কোটি ৮ লাখ টাকায় ক্রয় করেছেন। দলিল নম্বর ১৯১১/৯৯, তারিখ ০৬/০৪/১৯৯৯ অনুযায়ী জমির পরিমাণ ১৭ শতক। তিনি বলেন, ‘ক্রয়ের পর থেকে আমি নিয়মিত খাজনা প্রদান করেছি এবং আমার নামে নামজারি হয়েছে। আমি দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে এই পাম্পটি পরিচালনা করে আসছি।’

আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ ২২ সেপ্টেম্বর তিনি যশোর প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করবেন।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ফিলিং স্টেশনটি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হলেও হঠাৎ মালিকানা নিয়ে চলমান এই দ্বন্দ্বে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।