কোনো পত্রিকা ছিঁড়িনি, মিথ্যা ন্যারেটিভ প্রত্যাখ্যান করেছি: রাশেদ খানের আত্মপক্ষ সমর্থন

0
‘আমার দেশ’ পত্রিকার প্রতিবেদন ও ভিডিও বার্তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক: এনইসির প্রতিবাদ ও রাশেদ খানের ধারাবাহিক আত্মপক্ষ সমর্থন।

দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের ভিডিও বার্তা ও ফেসবুক পোস্টগুলোকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম অঙ্গনে উত্তাপ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘আমার দেশ’-এ তাঁকে ও সরকারকে জড়িয়ে লিড নিউজ প্রকাশের পর গত ৩১ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিও বার্তা এবং পরপর কয়েকটি পোস্টে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানান রাশেদ খান।

তাঁর এই ভিডিও বার্তা ও প্রকাশ্যে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।

রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্ট: স্ক্রিণশট

রাশেদ খানের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থন

রাশেদ খান তাঁর ভিডিও বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করেন, মাত্র পনেরো দিনের ব্যবধানে (১৫ অক্টোবর ও ৩১ অক্টোবর) তাঁকে নিয়ে দুটি বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লিড নিউজ প্রকাশ করেছে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা। প্রথম সংবাদটিতে (১৫ অক্টোবর) তাঁকে নিয়ে সামান্য এক লাইন লিখে খোঁচা মারা হলেও, দ্বিতীয় সংবাদটিতে “এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি” তাঁকে আওয়ামী লীগের সাথে ট্যাগ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রাশেদ খান তাঁর প্রথম ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, গত ১৫ অক্টোবর এবং ৩১ অক্টোবর মাত্র পনেরো দিনের ব্যবধানে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা তাঁকে নিয়ে দুটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লিড নিউজ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও সত্যতা তিনি সামনে নিয়ে আসায় এবং জামায়াত তাঁর সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায়—তাদের বাঁচাতেই ‘আমার দেশ’ পত্রিকা তাঁর বিরুদ্ধে এই প্রতিহিংসামূলক সংবাদ প্রকাশ করেছে।। ছবি: ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি কোনো ‘ফেসবুক লাইভ’ করেননি, বরং ফরমাল ভিডিও আকারে নিজের প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন। কোনো পত্রিকা নয়, বরং তাঁর বিরুদ্ধে তৈরি করা মিথ্যা ন্যারেটিভ, অপবাদ ও চরিত্রহননমূলক অসত্য তথ্য প্রত্যাখ্যান করে তিনি সেটি ছিঁড়ে ফেলেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আমার দেশ’ পত্রিকা বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর ফান্ডিং ও তাদের রাজনৈতিক মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে। জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও সত্যতা তিনি সামনে নিয়ে আসায় এবং জামায়াত তাঁর সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায়—তাদের বাঁচাতেই ‘আমার দেশ’ পত্রিকা তাঁর বিরুদ্ধে এই প্রতিহিংসামূলক ও মিথ্যা ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়েছে।

এই পোস্টে তিনি আরো বিশদভাবে জানান যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ‘আমার দেশ’-এ তাঁর বক্তব্য প্রচারে সম্পাদক মাহমুদুর রহমান নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে প্রমাণ পাঠানোর পরেও তা এড়িয়ে যাওয়া হয়। তিনি পরিষ্কার করেন যে, রাজনৈতিক সমালোচনা যে কেউ করতে পারে, কিন্তু প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মিথ্যাচার করা গ্রহণযোগ্য নয়।। রাশেদ খানের ফেসবুক থেকে স্ক্রিণশট নেওয়া

সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের অতীত সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে রিমান্ড ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজে মজলুম হওয়ার পরও মাহমুদুর রহমান কীভাবে একজন সাবেক কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতার বিরুদ্ধে এমন ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাতে পারেন, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি এও জানান যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ‘আমার দেশ’-এ তাঁর বক্তব্য নিষিদ্ধ করতে সম্পাদক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন এবং হোয়াটসঅ্যাপে প্রমাণ পাঠানোর পরও তা এড়িয়ে গেছেন।

এনইসির নিন্দা ও প্রতিবাদ:

এদিকে রাশেদ খানের এই ভিডিও বার্তা এবং প্রকাশ্যে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।

এক যৌথ বিবৃতিতে এনইসির সভাপতি শফিক রেহমান এবং কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য ভিডিও করে প্রচার করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর আমার দেশ ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও বার্তার নিন্দা ও প্রতিবাদ এনইসির

সংবাদে সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিবাদলিপি পাঠানো, প্রেস কাউন্সিলে যাওয়া বা আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধান থাকলেও তা না করে ফেসবুকে ভিডিও প্রচার করে তিনি উসকানিমূলক বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে, তারেক রহমান (আম জনতা পার্টির) কর্তৃক সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইনের আওতায় আনার দাবিকেও সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে এনইসি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত স্বৈরাচারী আমলে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ যেভাবে ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় হামলা ও পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার সংস্কৃতি চালু করেছিল, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও প্রায় একই ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ ও সম্পাদকদের হুমকি দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধের জোর আহ্বান জানিয়ে নেতারা সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের প্রবণতা দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।