রামপালে নদী ভাঙনে বসতবাড়ি ফসলি জমি রাস্তা বিলীন

0

এম. এ. সবুর রানা, রামপাল (বাগেরহাট) ॥ বাগেরহাটের মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের রামপাল সরকারি কলেজের পাশ দিয়ে বগুড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, গাছপালাসহ সেমিপাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেল খননের পর রামপালে বেশ কিছু এলাকায় তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়। এর মধ্যে রামপাল সরকারি কলেজের পাশ দিয়ে ওড়া বুনিয়া হয়ে বগুড়া নদীর মোহনা পর্যন্ত ভাঙন দেখা দেয়। এছাড়া বগুড়া নদীর উত্তর হুড়কার চলাচলের একমাত্র রাস্তার বেশ কিছু অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কাঁকড়াবুনিয়ার একমাত্র চলাচলের রাস্তার প্রায় আধা কিলোমিটার নদী গর্ভে চলে গেছে। দাউদখালী নদীর ঝনঝনিয়া, ফয়লাহাটের আবাসন এলাকা, শ্রীফলতলা, বড়দিয়া-ইসলামাবাদ সড়কের বেশ কিছু অংশ, পশ্চিম রোমজাইপুর, রোমজাইপুর পূর্বপাড়া, ডাকরা, রামপাল সদর খেয়াঘাটের দুই পাড়ে ভাঙন দেখে দিয়েছে। মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলসহ দাউদখালী ও বগুড়া নদীর প্রায় ৬/৭ কিলোমিটারজুড়ে এমন ভাঙন দেখা দেয়। বিশেষ করে ফয়লাহাটের যৌখালী ব্রিজের দুই পাশে তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় ব্রিজটিও হুমকিতে পড়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকাজুড়ে এ পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০টি বাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া ফসলি জমি, গাছপালা, পাকা ও আধাপাকা রাস্তাসহ শতাধিক একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি নদী গ্রাস করে নিয়েছে।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড রামপালের ফয়লা বাজার, ঝনঝনিয়া বাজার ও রামপাল সরকারি কলেজের সামনের কিছু স্থানে গত বছর জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করে। অন্যসব জায়গায় ভাঙন অব্যাহত থাকায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম বলেন, রামপালের বেশ কিছু এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু এলাকায় তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙন রোধে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা বার বার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমি ভাঙনকবলিত বেশ কিছু স্থান পরিদর্শন করেছি। ৩/৪ টি স্পটে জিও ব্যাগ ফেলে আশু ভাঙন রোধ করা হয়েছে। রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মন্ত্রী মহোদয়ের ডিও লেটারসহ চিঠি পাঠালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।’