রাজগঞ্জ- মণিরামপুর সড়কে দুইযুগ ধরে বাস চলাচল বন্ধ

0

 

ওসমান গণি, রাজগঞ্জ (যশোর)॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ থেকে মণিরামপুর সড়কে দুইযুগ ধরে বাস সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। মণিরামপুর উপজেলা সদর থেকে রাজগঞ্জ বাজারের দূরত্ব প্রায় ১১ কিলোমিটার।
১৯৯০ সাল থেকে এ সড়কে বাস চলাচল শুরু হয়। বাস চলাচলের ৯ বছর পর অর্থাৎ ১৯৯৯ সাল থেকে এ সড়কে অনেকটা জোর করে টেকার ও ত্রি-হুইলার চলাচল শুরু করে। এর সাথে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে ইজিবাইক। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল বাস চালকদের সাথে দৈনন্দিন হট্টগোল করার কারণে ১৯৯৯ সাল থেকে বৃহত্তর সড়কে বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। শুরুতেই এ সড়কের বাস ভাড়া ছিল মাত্র ৫টাকা।
এরপর ২০০০সাল থেকে এ সড়কে টেকার ও থ্রি-হুইলার চলাচল শুরু হয়। শুরুতেই যাত্রী প্রতি টেকারের ভাড়া ছিল ১০টাকা। বিভিন্ন সময়ে সে ভাড়া বেড়ে এখন ২৫টাকায় দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে বাস ভাড়া অনেক কম থাকলেও এখন আর সড়কে দেখা মেলে না সেই বাস সার্ভিস। এদিকে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের বাস মালিকরা বলছেন, যাত্রীদের কাছ থেকে কম ভাড়া নিয়ে তারা বৃহত্তর এ সড়কে বাস সার্ভিস চালু করেন।
দীর্ঘদিন বাস সার্ভিস চালু থাকার পর স্থানীয় প্রভাবশালীদের হুমকি-ধামকির কারণে অবশেষে রাজগঞ্জ -মণিরামপুর সড়কে বাস সার্ভিস বন্ধ করে দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘ দুইযুগ ধরে রাজগঞ্জ মণিরামপুর সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক শ্রমিক কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। এছাড়া অনেক বাস মালিক এ ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এ সড়কে চলাচলকারি যাত্রী ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার কলেজপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলী গাজী ও নজরুল ইসলাম, ঝাঁপা গ্রামের শহিদুল ইসলাম ও মোশারফ হোসেন, চালুয়াহাটি ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ ও মোবারকপুর গ্রামের আমজাদ হোসেন জানান, একক আধিপত্যের কারণে টেকার, থ্রি-হুইলার ও ইজিবাইকের চালকরা ইচ্ছামত ভাড়া বাড়িয়ে দেন আবার কমিয়ে ও দেন। এত বেশি ভাড়া দিয়ে অনেক সময় গরীব মানুষেরা চলাচল করতে পারেন না। তাইতো গরিব অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে বৃহত্তর এ সড়কে পুনরায় বাস সার্ভিস চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন যাত্রীরা।
এ ব্যাপারে কথা হয় রাজগঞ্জ- মণিরামপুর সড়কের বাস মালিক এনামুল হকের সাথে। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, প্রথম থেকে এ সড়কে বাস ভালই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল জোর করে এ সড়কে টেকার ঢুকিয়ে হট্টগোল শুরু করেছে। যে কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে হলো। এরপর নিজের বাসটিও বিক্রি করে দিলেন এ মালিক।