মোংলাকে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : নৌপরিবহনমন্ত্রী

0
ছবি: সংগৃহীত।

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা॥ দক্ষিণাঞ্চলকে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক নতুন অর্থনৈতিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। এ অঞ্চলের জ্বালানি সংকট সমাধান, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এখন এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত ১৫ দিনের মধ্যে দুইবার মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেছেন।

তিনি মনে করেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ অঞ্চলকে পিছিয়ে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। দ্বিমত থাকতে পারে, তবে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একমত হতে হবে। স্বস্তি, শান্তি ও অগ্রগতির জন্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা না থাকলে বৃহত্তর খুলনা, ফরিদপুর ও বরিশাল বিভাগের মানুষের সম্ভাবনা, যোগ্যতা ও সক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে না; বরং তা আবারও ভূলুণ্ঠিত হতে পারে।

শুক্রবার সকালে মোংলা বন্দর জেটিতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, মোংলা বন্দরে নতুন কনটেইনার জেটি, ইয়ার্ড ও আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। এখানে চায়না ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এ অঞ্চলে অনেক বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। ভাঙ্গা থেকে মোংলা পর্যন্ত মহাসড়ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, পাশাপাশি রেল যোগাযোগও আসছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ এবং শিল্পায়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদেই মোংলাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, অবকাঠামো, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে। সেই লক্ষ্যেই সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, মোংলা, খুলনা, ফরিদপুর ও বরিশালসহ এ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে পশ্চাৎপদ ও পিছিয়ে রয়েছে। একটি অঞ্চলকে পিছিয়ে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে জ্বালানি সংকট রয়েছে, যার সমাধানে কাজ চলছে। শিল্পায়নের জন্যে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি এবং সেবা খাত প্রতিষ্ঠায় সরকার ইতোমধ্যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এখন প্রয়োজন স্বস্তি, শান্তি ও অগ্রগতির পরিবেশ নিশ্চিত করা। এজন্য বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে।

নবনির্বাচিত শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে শেখ রবিউল আলম বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম মূল চাবিকাঠি শ্রমিকদের ভূমিকা। শ্রমিকদের কল্যাণে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সিবিএকে যোগ্য নেতৃত্ব গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। মালিক ও শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক। তাই উভয়পক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উন্নয়নে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল আলম মনা।

এ সময় বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) শেখ মামুনুর রহমান, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মোংলা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. জুলফিকার আলী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বন্দরের ডেপুটি ট্রাফিক পরিচালক মো. সোহাগসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আমদানি-রপ্তানিসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, শ্রমিকরাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। সরকার সব সময় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার এ অঞ্চলের তথা মোংলা বন্দরের উন্নয়নকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

নবনির্বাচিত কমিটি মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উন্নয়নে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।