নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যবিপ্রবি’র সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুস সাত্তার কারাগারে

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত দুদকের মামলায় সাবেক ভিসি (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ড. অধ্যাপক আব্দুস সাত্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার মামলার ধার্য্যদিনে অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। এ সময় সিনিয়র স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) শেখ নাজমুল আলম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একই মামলার চার্জশিটভুক্ত অপর দুই আসামি ইতোপূর্বে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে রয়েছেন। এরা হলেন, যবিপ্রবি’র উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আব্দুর রউফ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক উপ-উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন।

দুদকের মামলা সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রউফকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ এবং সরকারি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট যবিপ্রবি’র সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তারসহ উল্লিখিত ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক যশোরের তৎকালীন উপ-পরিচালক আল-আমিন। পরে মামলার তদন্ত শেষে উল্লিখিত আসামিদের অভিযুক্ত করে সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

দুদকের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে আবেদন করেন আসামি আব্দুর রউফ। নিয়োগের জন্য গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট বাছাই বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীর ভিসি অদ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার। বাছাই বোর্ডের অপর সদস্য ছিলেন ইবির উপ-উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন। একই বছরের ২২ আগস্ট প্রার্থী আব্দুর রঊফের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এ সময় আরো তিন প্রর্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু সেসময় কাউকে পাস করানো হয়নি। তবে পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুর রউফের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও বাছাই বোর্ড অবৈধভাবে তাকে প্রথমে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে ওই পদের পরিবর্তে সেকশন অফিসার (গ্রেড-১ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। রিজেন্ট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই আব্দুর রঊফকে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এরপর আব্দুর রউফ সেকশন অফিসার পদে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিলেকশন গ্রেডসহ বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করেন।

এছাড়া তিনি বিভাগীয় প্রার্থীর সুবিধা নিয়ে ২০১৪ সালে সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে এবং ২০২১ সালে উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। অবৈধ নিয়োগের কারণে ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত আব্দুর রঊফ বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ টাকা নিয়ে আত্মসাত করেছেন।