মনিরামপুরের মুক্তেশ্বরী নদী থেকে ঘের মালিকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

0

স্টাফ রিপোর্টার, মনিরামপুর (যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুরে মুক্তেশ্বরী নদী থেকে রঞ্জন মন্ডল (৬০) নামের এক ঘের ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, তাকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের হেলারঘাট ব্রিজের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রঞ্জন মন্ডল পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার কালীচরণপুর গ্রামের মৃত হরিপদ মন্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে রঞ্জন মন্ডল নিজ বাড়ি থেকে কাটাখালী বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন। রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।

শনিবার সকালে মুক্তেশ্বরী নদীর হেলারঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা রমেশ চন্দ্র নিজের পাটায় জাল তুলতে গিয়ে নদীর পানিতে একটি ভাসমান বস্তা দেখতে পান এসময় তিনি পুলিশে খবর দিলে নেহালপুর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা খুলে রঞ্জন মন্ডলের লাশ শনাক্ত করে।

নিহতের স্ত্রী বিউটি মন্ডল জানান, তার স্বামী ঘের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুক্রবার বিকেলে বাজারের কথা বলে বের হওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) অলক বিশ্বাস জানান, নিহতের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ফোলা দাগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুষ্কৃতকারীরা তাকে অপহরণের পর মারধর করে এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক আলামতে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং শ্বাসরোধে মৃত্যু বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।