যশোর পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধি গেজেট আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে যশোর পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধি নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত গেজেট। সীমানা বৃদ্ধির ওপর আপত্তি না থাকায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ গেজেট প্রকাশ করেছে এমন তথ্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন নতুন অন্তর্ভূক্ত এলাকার সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা। তারা বলছেন, সীমানা বৃদ্ধির বিষয়ে আপত্তি ও শুনানি হওয়া সত্ত্বেও গেজেটে তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও তারা জানান। শহরতলীর কয়েকটি এলাকা যুক্ত করে বাড়ানো হয়েছে যশোর পৌরসভার আয়তন। সীমানা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ওপর আপত্তি না থাকায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে গেজেট প্রকাশ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে যশোর পৌরসভার আয়তন বেড়ে ৭ বর্গকিলোমিটার হয়েছে। নতুন সীমানায় পৌরসভায় যুক্ত হয়েছে পুরো উপশহর ইউনিয়ন। পাশাপাশি সংযুক্ত হয়েছে চাঁচড়া এলাকা এবং রামনগর, ফতেপুর, নওয়াপাড়া ও আরবপুর ইউনিয়নের আংশিক এলাকা।
গেজেট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ২৪ আগস্ট যশোর পৌরসভার সীমানা বাড়িয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে প্রথম একটি গেজেট প্রকাশিত হয়। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ অনুযায়ী পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এই গেজেট প্রকাশ করে। এ বিষয়ে কোন আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের লিখিতভাবে জানানো ও শুনানিতে অংশ নিতে বলা হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষে যশোর জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ আকারে পাঠান। সেখানে উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে কারোর আপত্তি না থাকায় চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করতে কোনো সমস্যা নেই। আর সেই সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় যশোর পৌরসভার সীমানা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে।
এদিকে গেজেটে সীমানা বৃদ্ধির ওপর আপত্তি না থাকার বিষয়টি উল্লেখ থাকায় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নতুন অন্তর্ভূক্ত হওয়া ইউনিয়নগুলোর চেয়ারম্যানরা। তাদের দাবি এ বিষয়ে আপত্তি ও শুনানি হওয়া সত্ত্বেও গেজেটে তা উল্লেখ করা হয়নি। এটিকে কোনো মহলের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন তারা।
এ বিষয়ে যশোর সদর উপশহর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ গেজেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখছি যে, সীমানা বৃদ্ধি নিয়ে কোনো আপত্তি করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে তা মোটেও সঠিক নয়। এ বিষয়ে প্রথম যখন প্রজ্ঞাপন বা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় তখন আমরা লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছিলাম যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে এবং শুনানিও হয়েছিল। কিন্তু গেজেটে তা নাকি উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেবেন কী না এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, আপাতত গেজেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু ভাবছি না’। একই কথা বলেন, সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা গত বছর যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলাম এটা সঠিক। তবে গেজেটে কী উল্লেখ করা হয়েছে সে বিষয়টি না দেখে মন্তব্য করতে চাই না। গেজেট হাতে পেলে পরবর্তীতে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে’।
তবে এ বিষয়ে ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘পৌরসভার সীমানা বৃদ্ধি নিয়ে ২০১৯ সালে ২৪ আগস্ট যশোর পৌরসভার সীমানা বাড়িয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে প্রথম একটি গেজেট প্রকাশ হয়। এ সময় সীমানা বৃদ্ধি নিয়ে কারোর আপত্তি আছে কী না সে বিষয়ে জানানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় বেধে দেয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে আমিসহ যশোর সদরের চারটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। সে সময় সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. শফিউল আরিফ শুনানিতে অংশ নিয়ে আমাদের আবেদন খারিজ করে দেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এসব বিষয় উল্লেখ না করে কোনো শুনানি বা আপত্তি জানানো হয়নি মর্মে একতরফা গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ গেজেটের কপি আমরা হাতে পেলেই উচ্চ আদালতে গিয়ে এ গেজেট চ্যালেঞ্জ করবো। কেননা পূর্বের আপত্তি ও শুনানির কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে’। ব্রিটিশ শাসিত অবিভক্ত ভারতের গোড়াপত্তন হয় যশোর পৌরসভার। ১৮৬৪ সালে যশোর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই অর্থে যশোর শহর দেড়শ বছরের বেশি প্রাচীন। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের এই ব্যবধানে কখনও যশোর পৌরসভার আয়তন বাড়েনি। এই প্রথম সীমানা বাড়িয়ে বিস্তৃত হচ্ছে পৌর শহরের আয়তন। যশোর পৌর এলাকার বর্তমান আয়তন সাড়ে ১৪ বর্গকিলোমিটারের একটু বেশি। তবে এবার বেড়েছে এর আয়তন। শহর সংলগ্ন ৬ টি ইউনিয়নের ৭ বর্গকিলোমিটারের কিছু বেশি অংশ পৌর এলাকায় যুক্ত করা হয়েছে’। তবে এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।