চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে কাজ করারও আগ্রহ দেখিয়েছে চীন

বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা

0
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন কাজ করারও আগ্রহ দেখিয়েছে চীন
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সংগৃহীত ছবি

লোকসমাজ ডেস্ক॥ চীনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার বেইজিংয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রীর লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। তাদের উপস্থিতিতে বিনিয়োগ, গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ ১৭টি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে দুই দেশ।
এরপর শুক্রবার গ্রেট হলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। তাদের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি দুই নেতা একান্তেও কথা বলেন।
পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে বৈঠকের বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
চীন চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, “এই বন্দরের আধুনিকায়ন করে কীভাবে এটাকে আমরা একটা রিজিওনাল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, যেটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, অন্যান্য দেশের জন্যও সার্ভ করবে, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই।
“একই সাথে মোংলা পোর্টকে আপগ্রেড করবার জন্য এবং মোংলা পোর্টকে আরো বেশি প্রোগ্রেসিভ করবার জন্য, সার্ভিস ওরিয়েন্টেড করবার জন্য চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা সেগুলো দিয়ে আলোচনা করেছি।”
এছাড়া যোগাযোগ ও অর্থনীতির ‘ব্যাপ্তি বাড়াতে’ বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডোর করার প্রস্তাব আবারো সামনে এনেছে বেইজিং।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুই নেতার বৈঠকে ‘কানেক্টিভিটি’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
“সেখানে প্রস্তাব এসেছে, কীভাবে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি ইকোনমিক করিডোর তৈরি করা যায়, যে ইকোনমিক করিডোরের মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো, ইকোনমিক ট্রানজেকশন বাড়ানো এবং মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্টেশনকে আরো এনহ্যান্স করা।”
চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোরের ধারণা নতুন কিছু নয়। এটি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীন একটি প্রস্তাবিত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ রুট। এই করিডোরের মূল লক্ষ্য হল চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক ও কাঠামোগত সংযোগ স্থাপন।
গত শতকের নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা বিসিআইএম নামে পরিচিতি পায়। ২০১৩ সালের দিকে সেই উদ্যোগ আন্তঃসরকার স্বীকৃতিও পায়।
কিন্তু চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ নিয়ে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক আপত্তি ও অনীহার কারণে পরবর্তীতে বিসিআইএম প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়ে।
এরপর ভারতকে বাদ দিয়ে চীন তাদের বিদ্যমান ‘চীন-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর সম্প্রসারিত করে সরাসরি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়। মূলত এটিই এখন সম্ভাব্য ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
এই করিডোর চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে শুরু হয়ে মিয়ানমারের মান্দালয় পৌঁছাবে। সেখান থেকে একটি অংশ মিয়ানমারের ইয়াঙ্গন এবং অন্য একটি অংশ রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
এই সংযোগটি পরে সড়ক ও রেলওয়ে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সাথে যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে চীনের।