যশোরে সুদখোরদের অত্যাচারে নারীর আত্মহত্যায় মামলা, আটক ১

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে সুদখোরদের মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে লাভলী শারমিন (৪৫) নামে এক নারী আত্মহত্যার ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। ৪ সুদখোর নারীকে আসামি করে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মামলাটি করেছেন লাভলী শারমিনের ছেলে নিশাত আল মামুন। একই রাতে পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রুমা বেগমকে (৩৮) আটক করেছে। শহরের বারান্দীপাড়া থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক রুমা বেগম বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের নুর আলীর স্ত্রী। মামলার অপর ৩ আসামি হলেন, একই গ্রামের সোহাগ হোসেন ওরফে চোর সোহাগের স্ত্রী পারুল খাতুন (৩৬), শুকুর আলীর স্ত্রী ববিতা খাতুন (৪০) ও হাফিজুর রহমান ওরফে মাছো হাফিজের স্ত্রী শিরিন বেগম (৪০)।
নিশাত আল মামুন মামলায় উল্লেখ করেছেন, তার মা লাভলী বছর তিনেক আগে ব্যবসার প্রয়োজনে উচ্চ সুদে পারুলের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ধার নেন। এরপর ওই টাকা পরিশোধ করে দেয়া হয়। কিন্তু সুদের টাকার জন্যে তার মায়ের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন পারুল। গত ২০ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে পারুলসহ রুমা বেগম, ববিতা খাতুন ও শিরিন বেগম তাদের বাড়িতে এসে সুদের টাকা দাবি করেন। কিন্তু তার মা সুদের টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা তার মাকে প্রচন্ড গালিগালাজ করতে থাকেন। এ সময় মানসম্মানের ভয়ে তার মা তাদের কাছে টাকা পরিশোধের জন্যে কিছুদিন সময় প্রার্থনা করেন। তখন তারা হুমকি দিয়ে চলে যান। তাদের অভাব- অনটনের সংসার। এ বিষয়টি নিয়ে তার পিতার সাথে মায়ের মনোমালিন্য হয়। এরপর গত ৩০ নভেম্বর রাত সোয়া ১০টার দিকে উল্লিখিত আসামিরা ফের তাদের বাড়িতে আসেন। তার মা তাদের সুদের টাকা দিতে না পারায় তারা তাকে প্রচন্ড গালিগালাজ করেন। তারা তার মাকে আত্মহত্যা করতে বলেন। এ কারণে তার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপর পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় দেখা হলে উল্লিখিত আসামিরা তার মাকে নানা কটু কথা বলতে থাকেন। এই অপমান সইতে না পেরে গত ৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার আগে বাম হাতের ওপরে ও নিচে লিখে যান তার মৃত্যুর জন্যে সুদখোর পারুল, রুমা, ববিতা দায়ী।
কোতায়ালি থানা পুলিশের এসআই ইয়াসিফ আকবর জয় জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে আসামি রুমাকে আটক করেছেন। অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।

Lab Scan