যশোরে বিএডিসির আট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৭৭৫ টাকার সরকারি ধান বীজ ও গম বীজ আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বুধবার পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ে পৃথক এই মামলা করেছেন সংস্থার উপ-পরিচালক মো. আল-আমিন। আসামিরা ইতোপূর্বে যশোর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে এদের মধ্যে ৬ জন বিভিন্ন স্থানে কর্মরত এবং ২ জন অবসরে গেছেন।
আসামিরা হলেন- বিএডিসি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র যশোরের সাবেক উপ-পরিচালক বর্তমানে গাজীপুর বিএডিসির (বীজ উৎপাদন) উপ-পরিচালক মো. আমান উল্যা, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগরের বিএডিসি করিঞ্চা বীজ উৎপাদন খামারের সাবেক উপ-পরিচালক বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ বিএডিসি’র (আলু উৎপাদন) উপ-পরিচালক ইন্দ্রজীত চন্দ্র শীল, মহেশপুরের গোকুলনগর বীজ উৎপাদন খামারের সাবেক উপ-পরিচালক বর্তমানে দিনাজপুর বিএডিসি বীজ প্রক্রিয়াজাতরণ কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক তপন কুমার সাহা, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পাথিলা বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামারের সাবেক উপ-পরিচালক বর্তমানে কিশোরগঞ্জে বিএডিসি অ্যাগ্রো সার্ভিস সেন্টারের উপ-পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান তালুকদার, যশোর বিএডিসি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের সাবেক সহকারী পরিচালক বর্তমানে ফরিদপুরের তাম্বুলখানা বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আলী হোসেন, মহেশপুরের দত্তনগরের বিএডিসি করিঞ্চা বীজ উৎপাদন খামারের সাবেক গুদামরক্ষক বর্তমানে ফ্িরদপুরের তাম্বুলখানা বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামারের গুদামরক্ষক মো. রেজাউল কবির, মহেশপুরের গোকুলনগর বিএডিসি উৎপাদন খামারের সাবেক গুদামরক্ষক বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত মো. লিয়াকত আলী এবং চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পাথিলা বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামারের ভারপ্রাপ্ত গুদামরক্ষক বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত কামরুল আহসান।
উল্লিখিত আসামিরা যশোর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত থাকাকালীন পরস্পর যোগসাজসে করিঞ্চা, গোকুলনগর ও পাথিলা বীজ উৎপাদন খামারে ২০১৮-২০১৯ বর্ষে উৎপাদিত বীজের মধ্যে ১২৯ মেট্রিক টন হাইব্রিড ধান বীজ, ৪ দশমিক শূন্য ৬৯ মেট্রিক টন ব্রি ধান-২৮ জাতের ধান বীজ এবং ২১ দশমিক ৮১৮ মেট্রিক টন বারি-৩০ জাতের গম বীজ আত্মসাৎ করেন। যার সরকারি মূল্য ২ কোটি ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৭৭৫ টাকা।
দুদকের প্রথম মামলায় (নং-৭) আসামি করা হয়েছে ইন্দ্রজীত চন্দ্র শীল, মো. আমিন উল্যা, মো. আলী হোসেন ও মো. রেজাউল কবিরকে। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজসে দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মহেশপুরের দত্তনগরের করিঞ্চা বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামারের ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৯৮৪ টাকা মূল্যের ২২ দশমিক শূন্য ৩৫ মেট্রিক টন বীজ ধান ও ৯ হাজার ৩৬৮ কেজি গম বীজ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্বিতয়ি মামলায় (নং-৮) তপন কুমার সাহা, মো. আমিন উল্যা, আলী হোসেন ও লিয়াকত আলীকে আসমি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে মহেশপুরে গোকুলনগর বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামারের ১ কোটি ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪১ টাকা মূল্যের বোরো এসএল-৮ এইচ জাতের ৭৫ দশমিক শূন্য ৭৫ মেট্রিক টন বীজ ধান, ব্রি ধান-২৮ জাতের বোরো ধান বীজ ও ২ হাজার ৬২৫ কেজি বারি-৩০ জাতের গম বীজ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। সর্বশেষ মামলায় (নং-৯) মো. আক্তারুজ্জামান তালুকদার, মো. আমিন উল্যা, আলী হোসেন ও কামরুল আহসানকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জীবননগরের পাথিলা বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামারের ৬৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের ৩২ দশমিক ১১০ মেট্রিক টন বোরো এসএল-৮ এইচ জাতের বীজ ধান ও ৯ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন বারি-৩০ জাতের গম বীজ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছে দুদক।