যশোরে পাঁচদিনে ফুল সবজি রেণুপোনা সেক্টরে ক্ষতি শতকোটি টাকা

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ কারফিউ জারি থাকায় গত ৫ দিনে যশোরে ফুল, সবজি ও মাছের রেণুপোনা সেক্টরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরিবহন বন্ধ থাকায় এই তিন সেক্টরে পণ্য বাজারজাতকরণে ভোগান্তি হচ্ছে। ক্রেতার অভাবে ফুলের রাজধানী খ্যাত গদখালীতে চলছে হাহাকার। সবচেয়ে বড় সবজির মোকাম বারিনগরে সবজি কিনেও যানবাহন সংকটে তা দেশের নানা প্রান্তে নিতে পারছেন না পাইকাররা। পরিবহন সংকটে দেশের সিংহভাগ চাহিদা পূরণকারী যশোরের চাষিরা চাঁচড়ার রেণুপোনা উৎপাদন পল্লীর কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।
ফুলচাষিরা জানান, ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের ঝিকরগাছার গদখালী- পানিসারা এলাকায় ১২০০ হেক্টও জমিতে ১১ ধরনের ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। এখানকার প্রায় ছয় হাজার পরিবার ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। কোটাবিরোধী আন্দোলন ও কারফিউয়ের কারণে পরিবহন বন্ধ থাকায় রজনীগন্ধা, গ্লাডিউলাস, জারবেরা ফুল জমি থেকে তুলে ফেলে দিচ্ছেন কৃষকরা। তবে কিছু চাষি গোলাপ ফুল তুলে হিমাগারে সংরক্ষণ করছেন।
পানিসারা গ্রামের ফুলচাষি আজিজুর রহমান সরদার বলেন, এ বছর ৬ বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা, দেশি ও চায়না গোলাপ চাষ করেছেন। এ বছর রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে মাঠের অধিকাংশ ফুলক্ষেত পুড়ে গেছে। এখন বৃষ্টি হচ্ছে না। ভ্যাপসা গরম পড়ছে। এতে ফুলগাছ বাঁচিয়ে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসবের মধ্যে কারফিউতে ফুল বেচাকেনাও বন্ধ রয়েছে। গত ৫ দিনে আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। গদখালী বাজারে ফুল বিক্রেতা নাজমুল হোসেন বলেন, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার ফুল কিনি। আজও কিনেছি। পরিবহন বন্ধ থাকায় ফুল দেশের কোন প্রান্তে পাঠাতে পারিনি। সব ফুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
যশোর ফুল উৎপাদন ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, দেশের চলমান অস্থিরতার নেচিবাচক প্রভাব পড়েছে ফুল সেক্টরে। গদখালী মোকামে প্রতিদিন ২৫-৩০ কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হয়। গত পাঁচদিন ফুল সেক্টরে ৮০-৯০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে চলমান অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের বৃহত্তম সবজির মোকাম যশোর বারিনগরে। দেশের চাহিদার ৬০ শতাংশ সবজি সরবরাহ করে এই অঞ্চলের চাষিরা। কয়েকদিন ধরে এই মোকামে সবজির সরবরাহ খুবই কম। পাইকাররা কম দামে কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনেও যানবাহনের অভাবে তাদের মোকামে নিতে পারছেন না। বারিনগরহাটের ইজারাদার আব্দুস সোবহান বলেন, মোকামে বাইরের পাইকাররা কম দামে কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনেও যানবাহনের অভাবে তাদের মোকামে নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, মোকামে বাইরের পাইকাররা খুব কম আসছেন। স্থানীয় কিছু পাইকার দ্বিগুণ টাকায় ট্রাক ভাড়া করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সবজি নিয়ে যাচ্ছেন। আগে এক ট্রাক সবজি ঢাকায় নিতে ২২ হাজার টাকা ভাড়া লাগতো। এখন লাগছে ৩০ হাজার টাকার বেশি। এর প্রভাব পড়ছে খুচরো বাজারেও।
অপরদিকে হ্যাচারি পল্লী খ্যাত চাঁচড়ার চাষিরা সারা দেশের চাহিদার ৭০ শতাংশ রেণু পোনা এখান থেকে সরবরাহ করেন। তবে কারফিউয়ের কারণে রেণু পোনা উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। যশোর হ্যাচারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আহমেদ গোলদার বলেন, পরিবহন বন্ধ থাকায় বাইরের জেলায় পোনা সরবরাহ করতে পারছি না। এ জন্যে পোনা উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এক সপ্তাহে এই সেক্টরে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।