নেতানিয়াহু নয়, ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন বিরোধী নেতা আইজেনকোট

0
ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে নতুন জোট সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ অনলাইন ডেক্স ॥  ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে নতুন জোট সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব দিয়েছেন। গত সপ্তাহের নির্বাচনে দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা শেষ করে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ আইজেনকোটকেই দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে সিদ্ধান্তটির কথা নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—দুজনকেই ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এখন নতুন সরকার গঠনে সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট প্রাথমিক অবস্থায় ২৮ দিন সময় পাবেন; তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

গাদি আইজেনকোট ।। ছবি: সংগৃহীত

দায়িত্ব পেয়ে আইজেনকোট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “এখন একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময়। আমরা যেন সেই দায়িত্ব পালনের যোগ্য হতে পারি, তা নিশ্চিত করতে আমি সবকিছু করব।”

সংবাদ বিশ্লেষণে জানা যায়, ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো দলই এককভাবে পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় এ পর্যন্ত গঠিত সব সরকারই ছিল মূলত জোট সরকার। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি এবং তাদের কট্টর ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি মিত্ররা যৌথভাবে ৫৩টি আসন লাভ করেছে।

অন্যদিকে, আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টি এবং তাঁর জোটের বাকি তিনটি ইহুদি বিরোধী দল মিলে ঝুলিতে পুরেছে ৪৮টি আসন। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি জোট—ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট, যারা আরব ভোটারদের রেকর্ড অংশগ্রহণে যৌথভাবে ১৯টি আসন পেয়ে মূল ‘কিংমেকার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ।। ছবি: সংগৃহীত

যদিও নির্বাচনের আগে একটি দল ছাড়া বাকি প্রায় সব ইহুদি দলই আরবদের সঙ্গে জোট না বাঁধার অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু নেসেট সদস্যদের প্রতিনিধির সঙ্গে সার্বিক আলোচনার পর আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পক্ষে ৬৭ জনের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেয়েছেন, যেখানে নেতানিয়াহু পেয়েছেন মাত্র ৪৬ জনের সমর্থন।

ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া নেতানিয়াহুকেই যে দায়িত্ব দিতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা না থাকায়, যার সম্ভাবনা বেশি সেই ভিত্তিতেই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে—প্রথমত, নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন; দ্বিতীয়ত, আইজেনকোটের জোট ভেঙে কয়েকজন সদস্যকে এনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ডানপন্থী সরকার; এবং তৃতীয়ত, আরব দলগুলোর সমর্থন অথবা অতি-রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে চরম সমঝোতা করে আইজেনকোটের সরকার।

ইতিপূর্বে ২০২০ সালেও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় বেনি গান্তজের সঙ্গে নেতানিয়াহুর পালাক্রমে ক্ষমতা ভাগাভাগির নজির রয়েছে।

তবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়কালটি রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে বার বার সমঝোতাহীনতায় মোট ৫টি নির্বাচনের সাক্ষী হয়েছিল। সে ইতিহাস পুনরাবৃত্তি না করে আরেকটি নির্বাচন এড়ানো ও একটি টেকসই স্থিতিশীল সরকার গঠনে দলগুলোকে নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কিছুটা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ।