যশোরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত নারীর মৃত্যু খুলনায় : শনাক্ত আরো ১০

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের অভয়নগরের এক গৃহবধূ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুলনায় মারা গেছেন। ২৪ ঘন্টায় যশোরে আক্রান্ত হয়েছে ১০ জন। সিভিল সার্জন অফিসের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ৮ জন কেশবপুর উপজেলা ও যশোর সদর উপজেলায় ১ জন করে ২ জন মিলে ১০ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৫শ ২৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে ৪শ’ ৮৪ জনকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পর ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ৪৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের ভেতর ৩১ জন অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চৌগাছা ও কেশবপুরে ২ জন করে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভয়নগরের ভাটপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী বেগম (৩২) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এক সপ্তাহ জ্বর নিয়ে গত রবিবার তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। তখন উন্নত চিকিৎসার জন্যে তাকে খুলনায় পাঠানো হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরএমও ডা. মো. মাহমুদুর রহমান রিজভী বলেন, এ বিষয়টি তার জানা নেই। গত ৩/৪ দিন তিনি অসুস্থ। হাসপাতালে তিনি রাউন্ড দিচ্ছেন না। তাছাড়া খুলনায় মৃত্যু হলে তাদের জানার কথা নয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির প্লাটিলেট কমে যায়। তখন তারা নিজেদের সম্পর্কে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্লাটিলেটের সংখ্যা দেড় লাখের নিচে আসলে বিপজ্জনক মনে করা হয়। একজন মানুষের রক্তের স্বাভাবিক প্লাটিলেট থাকে ৪ থেকে ৫ লাখ। চিকিৎসকগণ এ তথ্য জানিয়েছেন।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী চৌগাছার আল্পনা (৩২), ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মাছুরা (২১)। যশোর সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রামের প্রিন্স মাহমুদ (১৬) জানিয়েছেন, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বৃষ্টির কারণে। ঘনঘন বৃষ্টি হলে যত্রতত্র পানি জমে এবং জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে। ওই ডিম থেকে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়। ওই লার্ভা তিনদিনের ভেতর বড় হয়ে লোকজনকে কামড়ালে তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বলছেন, বৃষ্টি হলেই ভয়। তাই, বাসা-বাড়ির আশ-পাশে যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। ফুলের টবসহ অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানি ৪৮ ঘন্টা হতে ৭২ ঘন্টার মধ্যে পরিষ্কার করতে হবে। সরকারের স্থানীয় প্রশাসনকে মশা নিধনে পদক্ষেপ নিতে হবে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, সতর্কই ডেঙ্গুজ্বর থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়। বাসাবাড়িতে সতর্কতা হিসেবে মশার কয়েল বা ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করার গুরুত্বারোপ করে জাহাঙ্গীর হোসেন আরো বলেন, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর মূলত আলাদা কোন চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত রোগীকে প্যারাসিটামল জাতীয় নাপাসহ লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে শারীরিকভাবে দুর্বল লোকজন বেশি ঝুঁকিতে পড়েন।