যশোরের চিহ্নিত অপরাধীরা অধরা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীলসহ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিতর্কিত করতে তৎপর অপরাধীদের ধরতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে শুরু হয় অপারেশন ডেভিল হান্ট। অবশ্য যশোরে এর দুই দিন পর অভিযান শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

চলমান এই অভিযানে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অর্ধশতাধিক মানুষকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এই অভিযানে চিহ্নিত অপরাধীরা ধরা পড়েনি। পুুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগ পেলেই পুলিশ সাথে সাথে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। অপরাধের অভিযোগের সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটক করা হচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের লোকজন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিতর্কিত করতে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এর প্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীলসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের ধরতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু করে সরকার। পুলিশ ও বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান শুরু করা হয়। গত কয়েকদিনে এই অভিযানে অর্ধশতাধিক মানুষ আটক হয়েছে। যার বেশিরভাগ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং তারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে তৎপর ছিলেন বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়।

কিন্তু অভিযানে এখনো পর্যন্ত নানা কৌশলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে তৎপর সেই চিহ্নিত লোকজনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত চিহ্নিত এসব অপরাধী যশোরের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে রয়েছে। কারো কারো প্রকাশ্যেও দেখা মিলছে।

আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা কারা এবং কারা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে এতথ্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রয়েছে। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখাও (ডিএসবি) অবগত আছে তাদের সম্পর্কে।

সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশের নানা কৌশলও থাকে। কিন্তু আত্মগোপনে থেকে অপতৎপরায় লিপ্ত এসব সন্ত্রাসীকে ধরতে পুলিশের সেই কৌশলী তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। যদিও পুলিশ দাবি করছে সন্ত্রাসীদের ধরতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছে, মুড়লি এলাকার কুখ্যাত নাসির, যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শংকরপুরের বাসিন্দা হিটার নয়ন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলন, আরবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার কুখ্যাত ইয়াছিন মোহাম্মদ কাজল, সুজলপুরের গোলাপ, বিরামপুরের মুনসুর, লোনঅফিস পাড়ার ফারাজী বাঁধন, ষষ্ঠীতলা এলাকার কুখ্যাত শিকদার, শংকরপুরের গোলাম রসুল ডাবলু, আরবপুরের দাঁতাল বাবু, পুরাতন কসবার শাহাজাহান কবির শিপলু, খড়কির কুখ্যাত আক্তারুজ্জামান ডিকু, কারবালা এলাকার ভুট্টো, হাফিজ, ঘোপের শফিকুল ইসলাম সোহাগ, বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার ট্যাটু সুমন, রেলবাজার এলাকার বিদ্যুৎ, আসিফ, চাঁচড়া রায়পাড়ার প্রিন্স, রনি, শংকরপুর পশু হাসপাতাল এলাকার ভাইপো রাকিব, বেজপাড়ার আবুল খায়ের, পূর্ব বারান্দীপাড়ার কসাই মনির, জাকির হোসেন রাজিব, নাজির শংকরপুরের ট্যারা সুজন, নীলগঞ্জ এলাকার টাক ইব্রাহিম, স্টেডিয়াম পাড়া এলাকার সাবু, পোস্টঅফিস পাড়ার সবুজ, পালবাড়ি এলাকার নান্নু, শংকরপুর মাঠপাড়ার ভুষি সুমন, উপশহর এলাকার মুনছুর প্রমুখ।

এসব সন্ত্রাসীদের কাউকে এখনো পর্যন্ত আটক করতে পারেনি পুলিশ। শুধু সন্ত্রাসী নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির সাথে জড়িত সাবেক মহিলা লীগের নেত্রী মরহুম নুরজাহার ইসলাম নীরার ছেলে হীরা এবং পুরাতন কসবার শেখ আতিকুর রহমান বাবুর সেই সহযোগীদেরও আটক করা হয়নি।

এ বিষয়ে যশোরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) নুর-ই-আলম সিদ্দিকী জানান, তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ পেলেই সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। যাচাই বাছাই করে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ততা পেলে তাকে আটক করছেন। কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। ইতোমধ্যে তারা ডাকাতির সাথে জড়িত একটি চক্রের ১৪ সদস্যকে আটক করেছেন। শার্শায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত সকলকে আটক এবং লুণ্ঠিত সমূদয় টাকা উদ্ধার করেছেন।