চাঁদা দাবির অভিযোগে রাস্তার কাজ বন্ধ, সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা

জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য এবং কাজটির বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার আলী হোসেন।

0
চাঁদা দাবির অভিযোগে রাস্তার কাজ বন্ধ

রিফাত রহমান, চুয়াডাঙ্গা, লোকসমাজ: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে এডিবির অর্থায়নে চলমান একটি রাস্তার উন্নয়ন কাজ চাঁদা দাবির অভিযোগে বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মারধর এবং সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য এবং কাজটির বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার আলী হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিবির আওতায় কৃষ্ণপুর গ্রামের রবিউলের বাড়ির নিকট থেকে চোরাকাটা মাঠ অভিমুখী একটি সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর বদরগঞ্জের মেসার্স বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ। কাজ শুরুর পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি শ্রমিকদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন কৃষ্ণপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে ও রায়পুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুর রহমান (৩৫), একই গ্রামের শুকুর আলী মণ্ডলের ছেলে ও রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশীদ (৪৫) এবং আয়ুব খানের ছেলে ও যুবলীগ নেতা তুহিন হোসেন (৩২)। অভিযোগে আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রমিকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে চলমান কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শ্রমিকদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার হুমকিও দেওয়া হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

জীবননগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এনটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি রিপন হোসেন বলেন, “চাঁদা দাবির অভিযোগে রাস্তার কাজ বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে আমরা তিনজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে সংবাদ সংগ্রহকালে কয়েকজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ধাক্কাধাক্কি করেন।”

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, “রাস্তার কাজে চাঁদা দাবির অভিযোগে আলী হোসেন নামে একজন ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।