যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলে চলছে মৃদু তাপপ্রবাহ, বৃষ্টির আভাস বোরো আবাদ ঘরে তোলার অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে

0

 

আকরামুজ্জামান ॥ যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলে চলছে মৃদু তাপপ্রবাহ। মঙ্গলবার দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে যশোরে। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় খুলনা জেলায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস বলছে, তাপমাত্রা সামনে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আছে। এরপর আরেক দফা বৃষ্টিপাতের পর তা কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে।
যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটি নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত কয়েক দিনে ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে এ অঞ্চলে হয়ে যাওয়া টানা বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে যাওয়ার পর যশোরসহ আশপাশের চার জেলায় গত সোমবার থেকে মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার যশোরে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। তবে তাপমাত্রা যাই হোকনা কেনো অনুভূত হচ্ছে আরো বেশি। আবহাওয়া অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, তাপমাত্রার পাশাপাশি আবারো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে। তবে এটি কোনো সাইক্লোনের প্রভাবে না হলেও স্বাভাবিক গতিতে হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরের পর হালকা ঝিরঝির বৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য স্থায়ী ছিল। রাতে বা কাল বুধবার বৃষ্টির আভাস রয়েছে। বিকেলের দিকে যশোরে আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখা যায়। এদিন সকালে ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে বলেও আবহাওয়ার খবরে জানাগেছে।
এদিকে তীব্র গরমের মাঝে আবহাওয়া অফিস যখন আবারও বৃষ্টির আগাম খবরের বার্তা দিচ্ছে তখন যশোরাঞ্চলের মাঠে মাঠে অশনির প্রভাবে নষ্ট হওয়া ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত রয়েছে কৃষক। এ অবস্থায় দ্বিতীয় দফা বৃষ্টি হলে কৃষক তার সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় রয়েছে বলে অনেকেই জানান।
জেলার সদর উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকার চাষি শামসুর রহমান বলেন, এবছর বোরোর বাম্পার ফলন হলেও শেষ সময়ে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণেই মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে আমাদের স্বপ্ন। বাকি যেটুকু ধান ঘরে তোলার উপযুক্ত রয়েছে সেগুলো এখন তোলার চেষ্টা করছি। এখন যদি এ অবস্থায় আবার বৃষ্টিপাত হয় তাহলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
একই এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, একদিকে ঝড়-বৃষ্টি। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে বোরো আবাদ ঘরে তুলতে পারা যায়নি। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার চারা গজিয়ে যাওয়া ধানগুলো এখন ঘরে তুলে কোনো রকম ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন যদি আবার ঝড়-বৃষ্টি হয় তাহলে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর আর কোনো উপায় থাকবেনা। তিনি বলেন, একবিঘা (৩৩) শতাংশ জমির ধান কাটতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এরপর বৃষ্টির কারণে ধান নষ্ট হওয়ায় পুরোটাই লোকসানে। ফলে আবার যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ি তখন কী অবস্থা হবে তাই ভেবে পারছিনা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর যশোরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দীপঙ্কর দাস বলেন, গত অশনির প্রভাবে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর জেলার অধিকাংশ কৃষকই তাদের মাঠের ধান ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত। তিনি দাবি করেন, তাাদের তথ্যমতে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কৃষক ঘরে তুলতে পেরেছেন। বাকি যে ধান আছে তা আজ-কালের মধ্যে কৃষক ঘরে তুলতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন।