মোংলা নদীতে স্টিমার ঘাটের ডুবন্ত পন্টুনের অর্ধকোটি টাকার যন্ত্রাংশ লোপাটের অভিযোগ

0

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা॥ অবশেষে দীর্ঘ প্রায় চার মাস পর ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে মোংলা নদীতে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসির) পন্টুনটির উত্তোলন কাজ শুরু করেছে। এতে ঝুঁকিমুক্ত হতে যাচ্ছে মোংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু নৌ-ক্যানেলে কার্গো-লাইটার জাহাজসহ নৌচলাচল। এদিকে পন্টুনটিকে নদী থেকে পুরোপুরি উদ্ধারের আগেই প্রায় অর্ধকোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন মালামাল লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিআইডব্লিউটিসি।
বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪ অক্টোবর রাতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে বিআইডব্লিউটিসি’র মোংলার কুমারখালীর পরিত্যক্ত স্টিমার ঘাটের পন্টুনটি (নং-১১৫১) ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু নৌ-ক্যানেলটির মাঝখানে মোংলা নদীতে শিকল ছিঁড়ে ডুবে যায়। সেই থেকে অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে মোংলা সমুদ্র বন্দর হয়ে ঢাকা-নারয়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্তর্জাতিক এ চ্যানেলটি দিয়ে কার্গো, লাইটার ও বড় গ্যাসের জাহাজ এবং পণ্য বোঝাই নৌযান চলাচল করে আসছে । এ অবস্থায় ডুবন্ত এ পন্টুনটি উত্তোলনের জন্যে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর দরপত্র আহ্বান করে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। এরপর গত ১২ ফেব্র“য়ারি এক অফিস আদেশের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ভ্যাটসহ ৬০ লাখ ৬৩ হাজার টাকায় কাজ পায় ঢাকার মেসার্স আনফিল্লা ট্রেডার্স নামের এক কোম্পানি। এ কোম্পানিকে পন্টুনটি উত্তোলন করে দ্রুত চ্যানেলটি নৌযান চলাচলে ঝুঁকিমুক্ত করার কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়। গত ১৪ ফেব্র“য়ারি সকাল থেকে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আনফিল্লা ট্রেডার্স। ডুবন্ত এ পন্টুনটি নদী থেকে পুরোপুরি অপসারণ করা হলে ঝুঁকিমুক্ত হবে মোংলা-ঘষিয়াখালী আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু নৌ-ক্যানেলে কার্গো-লাইটার জাহাজসহ নৌচলাচল।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কাজ শুরুর অন্তরালে স্থানীয় একটি বড় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিদের সহায়তায় স্টিমার ঘাটটির প্রায় অর্ধকোটি টাকার মূল্যবান সরকারি যন্ত্রাংশ, পিলার, সিঁড়ি, শিকল ও অ্যাংকারসহ অন্যান্য মালামাল গোপনে কেটে ট্রাকবোঝাই করে চুরি হয়েছে। এমন ঘটনা স্থানীয় লোকজনের নজরে আসায় বিষয়টি বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষকে জানালে যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধারের জন্যে ২৬ ফেব্র“য়ারি মোংলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল অঞ্চলের সহকারী ম্যানেজার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামছুল হক।
চোরাই পথে লোপাট হওয়া মালামালের আংশিক কেটে নেয়ার কথা স্বীকার করে মেসার্স আনফিল্লা ট্রেডার্সের মালিক অনন্যা হোসাইন মৌসুমীর স্বামী ও ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. বেলাল হোসাইন বলেন, ‘কর্মস্থলে থেকে যারাই এ মালামালগুলো কেটে নিয়েছে তার জন্যে সরকারিভাবে যে দায়ভার আসে, তা আমরা বহন করব।’ এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। তবে এ ছাড়া গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতসহ অন্যান্য সময় যে মালামাল লোপাট হয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের প্রতিষ্ঠান কোন দায়- দায়িত্ব নেবেন না।
বিআইডব্লিউটিসি বরিশাল অঞ্চলের সহকারী ম্যানেজার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামছুল হক বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে যন্ত্রাংশ নিয়েছে, সে ব্যাপারে নিয়মানুযায়ী তার জামানত থেকে কেটে রাখা হবে, আর পাচার হওয়া অন্যান্য মালামালের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া থানায় দেয়া অভিযোগের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু নৌ-ক্যানেলের মোংলা নদীতে ডুবন্ত পন্টুনটির মালামাল লোপাটের ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর তদন্তও চলছে। মালামাল উদ্ধার ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।