মোংলায় বিদ্যুৎহীন ৪শ পরিবার

0

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ মোংলায় ঝড়ে বৈদ্যুতিক পিলার পড়ে এক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ( মেম্বার)  বসতঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় দুদিন ধরে বুড়িরডাঙ্গা এলাকার প্রায় ৪ শ পরিবারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বুধবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের পিলার ভেঙে পড়ায় ঘর বিধ্বস্ত হলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানায়, বুধবার (২৯ মার্চ ) রাত ১২টার দিকে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। এতে উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের ৪, ৫, ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার চন্দ্রিকা রায়ের (৩২) কাঠ-টিনের বসতঘরের ওপর একটি পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি (ঢালাই পিলার) ভেঙ্গে পড়ে। তখন ঘরে থাকা চন্দ্রিকা ও তার স্বামী-সন্তান সজাগ থাকায় দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে যান। ফলে তাদের শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বিধ্বস্ত হয় বসতঘরটি। এ সময় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে খুঁটি পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে জনবল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পিলারটি সরানোর জন্য ঘটনাস্থলে আসেন বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রামপালের ভাগা কার্যালয়ের ডিজিএম নওশের আলী। লেবার ও প্রয়োজনীয় উদ্ধার সামগ্রী নিয়ে উদ্ধার কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসলে ইউপি সদস্য চন্দ্রিকাসহ স্থানীয়রা ঘরের ক্ষতিপূরণের দাবিতে কাজে বাধা দেন। এতে শেষ পর্যন্ত আর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
সংরক্ষিত মহিলা সদস্য(মেম্বর) চন্দ্রিকা রায় বলেন, পিলার পড়ে আমার পুরো ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, ঘরের সকল মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। আমার ঘরের ক্ষতিপূরণ না দিলে আমি নতুন করে পিলার বসাতে দেবো না।
শুক্রবার (৩১ মার্চ) বিকেলে বুড়িরডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান উদয় শংকর রায় সামান্য ঝড় বৃষ্টিতে বিদ্যুতের খুঁটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে বলেন, ঝড়ে পিলারটি পড়ে চন্দ্রিকা রায়ের বসতঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় ঘটনার সময় থেকেই বিদ্যুৎহীন রয়েছে দিগরাজ বাজার ব্যাংক রোড় হতে বুড়িরডাঙ্গার দীপকের  বাড়ি পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে থাকা প্রায় ৪শ পরিবার। লাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে সংরক্ষিত মহিলা সদস্যকে  বুঝানোর চেষ্টা চলছে।