মিরপুরে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনের কড়া অ্যাকশন; প্রত্যাহার হলেন যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমান

0
মিরপুরের সেকশন ৬-এর সেই বহুতল ভবন, যার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে প্রবীণ নারী নূর জাহান বেগমের পোকা ধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের পর সন্তানদের চরম অবহেলার ঘটনা গণমাধ্যমে আসায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার পর ওই নারীর ছেলে, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) এ কে এম আনিসুর রহমানকে তাঁর পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তাঁকে আজ বুধবারই কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে; অন্যথায় আজ থেকেই তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য হবেন।

মৃত নূর জাহান বেগমের অপর সন্তানদের মধ্যে এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষিকা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর যুগ্ম সচিব ছেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানান, ২০১৩ সালের ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ অনুযায়ী ওই কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও খোঁজখবর নেওয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

আজ গণমাধ্যমে ‘মায়ের প্রতি এ কেমন অবহেলা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বাসার কিছু ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, নূর জাহান বেগম তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে বাসায় থাকতেন, সেই পুরো ফ্ল্যাটের অবস্থা অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। এমনকি উদ্ধারের সময় প্রবীণ ওই নারীর ডান চোখে সাদা ফাঙ্গাস এবং শরীরে পোকার অস্তিত্ব পাওয়ার গেছে জানিয়েছে পল্লবী থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মিরপুরের সেকশন ৬, ব্লক সি-এর ১৩ নম্বর সড়কের ওই ভবনের চতুর্থ তলায় গণমাধ্যমকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ কলবেল দিয়ে অপেক্ষা করলেও ভেতর থেকে কেউ দরজা খোলেননি। প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে একজন প্রবীণ নারীর এমন অমানবিক ও নোংরা পরিবেশে মৃত্যুকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এই ঘটনার পর দেশে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’ (যার বিধিমালা ২০২৩ সালে প্রণীত হয়) নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণপোষণ, স্বাস্থ্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। আইন অমান্য করলে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা অনাদায়ে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।