মাইকে ঘোষণা দিয়ে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ: ভাঙচুর লুটপাট, কুষ্টিয়ায় ৩০

0

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্কুল পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন কেন্দ্র করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের সান্দিয়ারা বাজার ও বশীগ্রাম ব্রিজ এলাকায় কয়েক ঘণ্টা এ সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফর গ্রুপের সঙ্গে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন মিঞা গ্রুপের বিরোধ চলে আসছে। যে কোনো ঘটনায় এলাকায় দুটি পক্ষ একে অন্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। রবিবার পান্টির ডাঁসা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুমন মিঞা গ্রুপ প্যানেল জয়লাভ করে। এ নিয়ে উত্তেজনা চলছিল এলাকায়। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনে বিজয়ী গোলাম নবী গতকাল সকালে সান্দিয়ারা বাজারে প্রতিপক্ষের ডাঁসার নেতৃত্বদানকারী ব্যবসায়ী মামুনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম দুলালকে কটূক্তি করেন। এ সময় মামুনের সমর্থকরা গোলাম নবীকে পিটিয়ে আহত করেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর সুমন গ্রুপের এক সমর্থক বশীগ্রাম ডাঁসা মসজিদে ইজ্জতের লড়াই দাবি করে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সান্দিয়ারা বাজার ও বশীগ্রাম ব্রিজ এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রামদা, ঢাল, সড়কি, লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি, দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আহতদের কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে। সংঘর্ষের বিষয়ে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন বলেন, রবিবার স্কুল পরিচালনা পরিষদের ভোটে তাঁর প্যানেল জয়লাভ করে। গতকাল সকালে বিজয়ী গোলাম নবী সান্দিয়ারা বাজারে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করে আহত করে। পরে দুই পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে তাঁর পক্ষের গোলাম নবী, হৃদয়, হাসান, মহব্বত, টিপুসহ ১০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফর বলেন, স্কুল নির্বাচন ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষ আওয়ামী লীগের লোকজন। কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, হঠাৎ বশীগ্রাম ডাঁসা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়- ‘আর বসে থাকবেন না। সম্মানিত গ্রামবাসী। আর কেউ বসে থাকবেন না। বশীগ্রামের ইজ্জত গ্রামবাসীকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের ওপর সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করেছে। এই শুনে আমরা দ্রুত দেশি অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়ি।’
এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের সমর্থকরা আহত হয়েছেন। তবে আহতের সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।