মহেশপুরে পুলিশের ভুলে ১৩ দিন কারাভোগ দিনমজুর মাহাবুলের

0

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ মহেশপুরে শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় মাদক মামলার আসামি মাহাবুবের পরিবর্তে দিনমজুর মাহাবুল ১৩ দিন কারাভোগ করলেন। আসামি শণাক্তে ভুল হওয়ার বিষয়টি পুলিশ আদালতে দাখিল করলে ওই দিনমজুর বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পান।
জানা গেছে, গত ১৩ দিন আগে ভুলক্রমে গ্রেফতার হওয়া দিনমজুরের নাম মাহাবুল (২৮)। তিনি মহেশপুর উপজেলার মাইলবাড়িয়া পশ্চিমপাড়ার শাহ আলমের ছেলে। অন্যদিকে মাদক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামির নাম মাহাবুব হোসেন, পিতার নাম আলী বক্স। তার বাড়িও একই গ্রামে। আসামি মাহাবুব একজন মাদক ব্যবসায়ী।
আসামি এবং দিনমজুর দুজনের নামের মিল থাকলেও তাদের বাবার নাম ও মায়ের নাম আলাদা। তবে পরিবারের অভিযোগ, গ্রেফতারের সময় দিনমজুরের পরিবার ও এলাকাবাসীর কারও বক্তব্য শোনেননি দামুড়হুদা থানার এ্স আই মেজবাহুর রহমান। ভুক্তভোগী মাহাবুল অভিযোগ করে বলেন, আটকের পরদিন তাকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঘটনার বিষয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার ইশ্বরচন্দ্রপুর এলাকা থেকে ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে শুকুর আলীকে আটক করে বিজিবি। সেই মামলায় পলাতক দেখানো হয় নাটোর জেলার জয়কেষ্টপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে আজবার আলী ও মহেশপুর উপজেলার মাইলবাড়িয়া গ্রামের শাহজামানের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী মাহাবুব হোসেনকে। বিজিবির দর্শনা কোম্পানি হাবিলদার শওকত আলী ছিলেন মামলার বাদী।
ফেনসিডিলসহ আটক হওয়া শুকুর আলী বলেন, তিনি জোন ছিলেন, ওই ফেনসিডিলের আসল মালিক ছিলো মাইলবাড়িয়া গ্রামের মাহাবুব হোসেন। কিন্তু এ মামলায় যে মাহাবুলকে পুলিশ ধরেছে তাকে তিনি চেনেন না।
স্থানীয় আজিজুর রহমান বলেন,মাহাবুল একজন দিনমজুর, শুধু নামের ভুলে তিনি ১৩দিন জেল খেটেছেন। এখনো সে মামলার হাজিরা দিচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহাবুর রহমান বলেন,‘আমাদের গ্রামে মাহাবুব নামে ৪-৫ জন আছে, কিন্তু পুলিশ আসল মাদক মামলার আসামিকে না ধরে একজন দিনমজুরকে ধরে নিয়ে যায়।
মাহাবুলের মা তহমিনা বলেন,‘আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি,হয়রানির শিকার হয়েছি।
মাহাবুল অভিযোগ করে বলেন,‘মিথ্যা মাদক মামলায় আমি ১৩ দিন জেল খেটেছি। শুধুমাত্র নামের মিলে মামলার আসল আসামিকে না ধরে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। আমি এর সঠিক বিচার এবং এই মামলা থেকে মুক্তি চাই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দামুড়হুদা থানার এস আই মেজবাহুরের কাছে বিষয়টি জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। মহেশপুর থানার অফিসাস ইনচার্জ ফয়েজ আহম্মেদ বলেন,তদন্তকারী কর্মকর্তার তো ভুল হওয়ার কথা না,নাম এবং পিতার নাম মিল থাকতে হবে।