মনিরামপুর বাজারে ভেজাল খাদ্যে খামারিদের গবাদিপশু হুমকির মুখে

0

স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর (যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুরে অসাধু ব্যবসায়ীদের ভেজাল পশুখাদ্যে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েঝে। একটি চক্র নি¤œমানের ভূষি কিনে তাতে একজাতীয় কেমিকেল এবং আটা মেশাচ্ছে। এই ভেজাল পশুখাদ্য তারা নামী ব্র্যান্ডের মোড়কে প্যাকেট করে বিক্রি করছে। ইতোমধ্যে একটি কোম্পানির পক্ষ থেকে ভেজাল সিন্ডিকেটের পাঁচ ব্যবসায়ীর নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। জানা যায়, গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে চিকন ভূষি। বসুন্ধরা, ফ্রেশসহ বিভিন্ন কোম্পানির উৎপাদিত এক বস্তা চিকন ভূষির বর্তমান বাজার মূল্য এক হাজার ছয় শ থেকে এক হাজার সাত শ টাকা। পৌর শহরে দীর্ঘদিন ধরে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি চক্র বসুন্ধরা, ফ্রেশসহ একাধিক নামী কোম্পানির উৎপাদিত চিকন ভূষির খালি প্যাকেট সংগ্রহ করে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন্ বাজার থেকে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় শ টাকায় নি¤œমানের প্রতিবস্তা ভুষি কিনে তাতে এক জাতীয় ক্যামিকেল এবং আটা মেশায়। পরে তারা বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটে ভরে বাজার মূল্যে বিক্রি করে আসছে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বস্তায় তারা লাভ করছে প্রায় এক হাজার টাকা। এসব ভেজাল খাদ্য খেয়ে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। খামারবাড়ি গ্রামের খামারি এনামুল হক নান্নু জানান, বাজারে ভেজাল খাদ্যের ছড়াছড়িতে গরুর স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। খানপুর গ্রামের খামারি গাজী মোহাম্মদ আলী জানান, এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আবুজার সিদ্দিকী কেমিকেল মেশানো ভূষিতে গরুর লিভার এবং কিডনিতে ইনফেকশন হবার আশঙ্কার কথা জানান। বাজার থেকে এসব ভূষির নমুনা নিয়ে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় ল্যাবে পাঠানো হবে বলেও তিনি উল্লোখ করেন। অবশ্য এ ব্যাপারে বসুন্ধরা ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের খুলনা বিভাগীয় কর্মকর্তা শহিদুল ইসালাম পৌরশহরের মফিজুর রহমান, মনির হোসেনসহ পাঁচ ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখসহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ ওই ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। মনিরামপুর থানার পরিদর্শক(সার্বিক) রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত চলছে।