সংসদে অর্থবিল পাস: করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে ৪ লাখ, ব্যাংক হিসাব ও নামজারিতে টিআইএন লাগবে না

0
জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের অর্থবিল পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে এবং ব্যাংক হিসাব খোলা বা নামজারিতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ভ্যাট কমানো হয়েছে।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ২০২৬ সালের অর্থবিল। আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে গত ১১ জুন বাজেট অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা হয়েছিল। আজ বিলটি পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সংসদে বক্তব্য দেন এবং করদাতাদের সুবিধার্থে বেশ কিছু বিষয়ে সংশোধনী আনার অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থবিলে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন অর্থবিল অনুযায়ী, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এটি পৌনে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব থাকলেও সংশোধিত বিলে তা আরও ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হলো। ফলে আগামী অর্থবছরে করদাতারা আগের সাড়ে তিন লাখ টাকার পরিবর্তে চার লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সুবিধা পাবেন।

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি-ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন ও নামজারির ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার যে প্রস্তাব ছিল, অর্থবিলে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, আগের মতোই টিআইএন ছাড়াই ব্যাংক হিসাব খোলা ও নামজারি করা যাবে।

অর্থবিল পাসের সময় জমি নিবন্ধনের একটি বিতর্কিত বিধান পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের পার্থক্য নিরসনে আনা এই বিধানটি ‘কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ’ সৃষ্টি করতে পারে—এমন সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়।

শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতেও বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে; বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ভিডিও সেবা ও সার্চ ইঞ্জিনে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায়ের ভ্যাট এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার রাজস্ব ভাগের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দেশীয় শিল্পের বিকাশে চিংড়িশিল্প, ওষুধশিল্প, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিলে স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম ও হীরার অলংকারের ভ্যাট কাঠামো নতুন করে নির্ধারণের পাশাপাশি এসব অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ৫০ পয়সা হারে উৎসে কর কাটার বিধান যুক্ত হয়েছে।

করপোরেট খাতে শৃঙ্খলা আনতে নতুন নিয়ম করা হয়েছে যে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ বিতরণ করলে ঘাটতির ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে; তবে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ বিধানের বাইরে থাকবে।

এছাড়া নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি মূলধন বা বার্ষিক বিক্রি রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিল এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, ঋণ গ্রহণ ও লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যৌথ উন্নয়ন চুক্তির আওতায় জমির মালিক ডেভেলপারের কাছ থেকে ফ্ল্যাট বা নগদ অর্থ পেলে সেটিকে মূলধনি প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য করে কর আরোপের বিধানও পাস করা হয়েছে।