নড়াইলে অফিসে ঢুকে মৎস্য কর্মকর্তাকে মারপিটের অভিযোগ

0
ছবি: সংগৃহীত।

নড়াইল সংবাদদাতা ॥ নড়াইল সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানকে মারপিটসহ গালিগালাজ ও কম্পিউটার ভাঙচুরের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার রাতে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান বাদী হয়ে জিসানুর রহমান নামে এক যুবকের নাম উল্লেখ করে ও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় মামলার এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার আসামি মো. জিসানুর রহমান (৩০) নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় কুমার কুন্ডু মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে,নড়াইল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মো. জিসানুর রহমান প্রায়ই বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চাইতেন। তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি কর্মকর্তা ও অফিসের কর্মচারীদের গালিগালাজ করে চলে যেতেন।

সর্বশেষ রোববার বিকেলে জিসানুর রহমান অজ্ঞাতনামা আরও চার -পাঁচজনকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।তিনি জেলার সব সুবিধাভোগী সদস্যের তালিকা দাবি করেন।

এ সময় মৎস্য কর্মকর্তা জানান,এর আগে আপনাকে একাধিক বার তথ্য দেওয়া হয়েছে।এই কথা বলার পর জিসানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানকে কিলঘুষি মেরে নাক,মুখ,হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।পরে অফিসের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ সময় অফিসের প্রায় ৬৮ হাজার টাকার সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর আছড়ে ভেঙে ফেলা হয়। সরকারি নথিপত্রের ক্ষতি করা হয়।

এ বিষয়ে জিসানুর রহমান বলেন,উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে উপকার ভোগীদের নামের তালিকা চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে তথ্য না দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তার কর্মচারীরা আমাকে মারপিট করেন। ধস্তাধস্তির ভেতর যে কারো হাতে লেগে কম্পিউটার ভেঙে যেতে পারে। আমি কেন কর্মকর্তাকে মারতে যাব?

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে রোববার রাতে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।