মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনায় ইরানের ব্যাপক পাল্টাহামলা, হেলিকপ্টার ও রাডার ধ্বংসের দাবি

0
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, গতকাল বৃহস্পতিবারের (১৬ জুলাই) এই হামলায় উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে ।। ছবি: সংগৃহীত
বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নতুন করে ব্যাপক পাল্টাহামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আজ শুক্রবার আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত একাধিক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, তাদের এরোস্পেসোর্সের (মহাকাশ বাহিনী) এই অভিযানে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী একটি কমান্ড সেন্টার, ওমানে মার্কিন নৌ ও আকাশ নজরদারি রাডার এবং কুয়েতে অস্ত্রের গুদাম ও দুটি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থাকে নিশানা করে হামলা চালানো হয়েছে।
হামলায় একটি রাডার ব্যবস্থা ও বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংস এবং বহু মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি ইরানের।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বামপুরে সেনাবাহিনীর ৩৮৮তম ব্রিগেডের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত সাত ইরানি সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

এছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত হরমোজগান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
আইআরজিসি আরও ঘোষণা করেছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে, যে কারণে তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি থমকে গেছে।

আল–জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এই পাল্টাহামলার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে কাতার, জর্ডান ও ইরাকেও। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আকাশপথে একাধিক হামলা প্রতিহত করেছে। তবে ইরানি হামলার পর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সেখানে এক শিশু আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জর্ডানের সেনাবাহিনী তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে। অন্যদিকে, ইরাকের এরবিল শহরের আকাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী আটটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং সুলাইমানিয়াহ শহরে ৪টি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
জর্ডান ও ইরাকের এই ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আইআরজিসি জানিয়েছে, গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই যুদ্ধবিরতির একাধিক শর্ত ও চুক্তি লঙ্ঘন করে পুনরায় ইরানের ওপর হামলা ও বন্দর অবরোধ করায় তারা এই কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।