যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বুশেহরে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস স্থাপনায় ভয়াবহ আগুন

0
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর ইরানের বুশেহর প্রদেশে আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের সামরিক স্থাপনা থেকে আকাশে মেঘের মতো কালো ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী উড়ছে।। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার ভয়াবহ বিমান হামলার পর বুশেহর প্রদেশে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের একটি কৌশলগত স্থাপনায় বড় ধরনের আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত (ওপেন-সোর্স) গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক (OSINT) বিভিন্ন সূত্র এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ স্বাধীনভাবে ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি এবং ইরানি কর্তৃপক্ষও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

মূলত কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাব দিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাতে ইরানজুড়ে ৮০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে হামলা চালানো হয়। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের ওপর ইরানের ক্রমাগত হুমকি দুর্বল করাই ছিল তাদের এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ও হামলা চালানোর পরপরই বুশেহরের আইআরজিসি অ্যারোস্পেস স্থাপনায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর সামনে আসে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমগুলো বুশেহর ও এর আশপাশের এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। তবে কোন কোন নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা সফল হয়েছে বা এতে কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও গভীর রাতে প্রদেশজুড়ে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠার কথা জানিয়েছেন।

সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের এই বিশেষ স্থাপনায় আগুন লাগার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে, ইরানের মূল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদাগার, ড্রোন (ইউএভি) উৎপাদন অবকাঠামো কিংবা প্রধান কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়ানোর আশঙ্কার মধ্যে ওয়াশিংটন বা তেহরান—কোনো পক্ষই এখনো এই হামলার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক বা বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রকাশ করেনি।