‘ভেবেছিলাম আমিই দলকে ডুবালাম’, পেনাল্টি মিসের পর ম্যাচ শেষে অকপট মেসি

0
পেনাল্টি মিসের পর মাঠের মধ্যেই নিজের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি।। ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এক চরম উত্তেজনাকর ম্যাচে আফ্রিকান পরাশক্তি মিশরের মুখোমুখি হয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের ১৯ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করে সমতা ফেরানোর একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের দুর্দান্ত দক্ষতায় মেসির সেই পেনাল্টি শটটি রুখে দেন। মহাগুরুত্বপূর্ণ এই নকআউট ম্যাচে এমন পেনাল্টি মিসের পর তীব্র আত্মগ্লানিতে ভুগছিলেন এই মহাতারকা। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্বীকার করেন, সেই মুহূর্তে তাঁর মনে হয়েছিল এই একটি ভুলের খেসারত দিয়ে হয়তো পুরো দলকেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হবে।

তবে মাঠের পরবর্তী নাটকের গল্প ছিল একেবারেই ভিন্ন ও রোমাঞ্চকর। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে স্পষ্ট বিদায়ের শঙ্কায় দিন গুনছিল আলবিসেলেস্তেরা। সেখান থেকেই শুরু হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অবিশ্বাস্য এক রূপকথা। শেষ মুহূর্তের ঝোড়ো আক্রমণে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। আর্জেন্টিনার এই মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের পেছনে অধিনায়ক মেসির অবদান ছিল অনন্য। দলের করা ৩টি গোলের মধ্যে একটি তিনি নিজে করেছেন এবং অন্য একটির বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন সতীর্থকে। অবশ্য ম্যাচ জয়ের পরেও পেনাল্টি মিসের সেই তীব্র খেসারতের অনুভূতি মন থেকে পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলতে পারছিলেন না তিনি।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক নিজের ভেতরের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, পেনাল্টি নষ্ট করার পর নিজের ওপর তাঁর মারাত্মক রাগ হয়েছিল। শটটি যেভাবে নেওয়া হয়েছিল, তাতে তাঁর মনে হচ্ছিল তিনিই আজ দলের পরাজয়ের প্রধান কারণ হতে যাচ্ছেন। তবে ২-০ স্কোরে পিছিয়ে পড়ার পরও যেভাবে পুরো স্কোয়াড এক হয়ে লড়াইয়ে ফিরেছে, তাকে এক কথায় রোমাঞ্চকর যাত্রা বলে অভিহিত করেন মেসি। পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করার পাশাপাশি এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পুরো কৃতিত্ব তিনি সতীর্থদের ওপরই ছেড়েছেন।

নিজেদের সমৃদ্ধ বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম দুই বা তার চেয়ে বেশি গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ার নতুন এক রেকর্ড গড়ল ল্যাটিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তি। দলটির এমন ইস্পাতকঠিন মানসিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করে মেসি জানান, এই স্কোয়াডের ওপর তাঁর অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। এই গ্রুপটি যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যেতে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের বিশ্বাস ধরে রাখতে জানে। মাঠের এই লড়াকু ফুটবলারদের পাশে থাকতে পারা এবং দলের নেতৃত্ব দেওয়াটা নিজের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক উল্লেখ করে অধিনায়ক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, এই মানসিকতা বজায় থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত আর্জেন্টিনা।