ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গুর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’র অনুমোদন: ৪ থেকে ৬০ বয়সীদের দেবে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা

0
ডেঙ্গুর টিকা 'কিউডেঙ্গা' ।। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু ভাইরাসের কোনো টিকার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশটির ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই) সম্প্রতি তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়ার তৈরি ডেঙ্গুর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ বাজারজাতকরণের অনুমোদন প্রদান করেছে।
ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

অনুমোদিত এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা দুই ডোজের এই কিউডেঙ্গা টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। প্রথম ডোজের তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের মোট চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই কার্যকর সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম।

পূর্বে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকুক বা না থাকুক, যেকোনো ব্যক্তি এটি নিতে পারবেন। এমনকি এই টিকা দেওয়ার আগে রক্তে প্রাক-টিকাদান পরীক্ষার (প্রি-ভ্যাকসিনেশন স্ক্রিনিং) কোনো প্রয়োজন নেই।

ভারতে এমন এক সময়ে এই টিকার অনুমোদন এল, যখন দেশটিতে ডেঙ্গু একটি ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত দুই দশকে ভারতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে মোট ডেঙ্গু রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতীয়।

তবে বিভিন্ন মডেলভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

তাকেদার বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন কর্মসূচির অধীন ফেজ-১, ফেজ-২ ও ফেজ-৩-এর মোট ১৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই অনুমোদন দিয়েছে ডিসিজিআই। এসব পরীক্ষায় ডেঙ্গুপ্রবণ ও অপ্রবণ অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি ব্যক্তি অংশ নেন।

ট্রায়াল ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১২ মাস পর নিশ্চিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০.২ শতাংশ এবং ১৮ মাস পর হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে কার্যকারিতা ছিল ৯০.৪ শতাংশ। সাড়ে চার বছর পর্যন্ত ফলোআপে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে এর কার্যকারিতা পাওয়া যায় ৮৪.১ শতাংশ এবং সাত বছরের ফলোআপ ডেটায় চারটি সেরোটাইপেই দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষার প্রমাণ মেলে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, কিউডেঙ্গা ইতোমধ্যে এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের ৪৩টি দেশে অনুমোদন অর্জন করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) উচ্চ সংক্রমণযুক্ত এলাকায় এর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি টিকাটিকে ‘প্রি-কোয়ালিফাইড’ ঘোষণা করেছে।

বর্তমানে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের সরকারি টিকাদান কর্মসূচিতে এটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারতে টিকাটি পরিকল্পিত ও সহজলভ্য করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও জনস্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে তাকেদা।