অবৈধ সম্পদ মামলায় কালীগঞ্জের সাবেক মেয়র কারাগারে
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান - সংগৃহীত ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মোস্তাফিজুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার তিনি যশোরের স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক এস এম নূরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মোস্তাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, যশোর তাদের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয়।

নোটিশের জবাবে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয় ৩ কোটি ৬ লাখ ৭ হাজার ৮৫১ টাকা। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এর মধ্যে ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ১৯১ টাকা ব্যাংকঋণ। ঋণের অর্থ বাদ দিলে তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৬৫ লাখ ৭১ হাজার ৬৮২ টাকা।

সম্পদ বিবরণীতে মোস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী বৈধ আয় হিসেবে ১ কোটি ২১ লাখ ৮৬ হাজার ২৫৬ টাকা উল্লেখ করেন। একই সময়ে পারিবারিক ব্যয় দেখানো হয় ৩৭ লাখ ৯৯ হাজার ৮২৯ টাকা। সে হিসাবে তাদের নিট বৈধ আয় দাঁড়ায় ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪২৭ টাকা। তবে অনুসন্ধানে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮৪ টাকার সম্পদের কোনো গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোহা. মোশারফ হোসেন ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তে মোস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৫২ হাজার ৮২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে সম্পদ বিবরণীতে ১৭ লাখ ৫৪০ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগও প্রমাণিত হয়।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর মোস্তাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য যশোরের স্পেশাল জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।