ভারতে ধরপাকড়ের আতঙ্ক: নথিপত্রহীনদের বাংলাদেশে পুশব্যাকের আশঙ্কায় হাকিমপুর সীমান্তে শত শত মানুষের ভিড়

0
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার কাছে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নথিপত্রহীন এক কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটকে রাখা হয়। রাজ্যের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের দমনপীড়ন ও ধরপাকড়ের ভয়ে অনেকে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টায় সীমান্তে পালিয়ে এসেছেন। ২৮ মে ২০২৬, হাকিমপুর।। ছবি: এএফপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারের কঠোর দমনপীড়নের আশঙ্কায় নথিপত্রহীন কথিত অভিবাসীরা দলে দলে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছেন। কলকাতা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পূর্বে পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্ত চৌকিতে গত দুই দিনে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছেন।

সীমান্ত চৌকিতে চার বছরের ক্ষুধার্ত মেয়েকে জড়িয়ে ধরে অপেক্ষা করছিলেন ৪৫ বছর বয়সী হাসিনা বিবি। তিনি বলেন, তাঁদের অবিলম্বে ভারত ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে, অন্যথায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কাছেই নির্মাণাধীন একটি ভবনে গুটিসুটি হয়ে বসা পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ কেউ কয়েক দিন ধরে ঠিকমতো খাবারও পাননি।

এই মাসের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ‘শনাক্ত, বাদ ও ফেরত’ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই তারা নির্বাচনে জিতেছে। গত সপ্তাহে রাজ্য সরকার কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাসহ ‘আটক বিদেশিদের’ জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। এতে রাজ্যের প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মুসলিমের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সুব্রত সাহা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, মঙ্গলবার থেকে দলে দলে মানুষ হাকিমপুর সীমান্ত চেকপোস্টে আসছেন। তাঁরা খবর পেয়েছেন এই চৌকি দিয়ে বাংলাদেশে পার হওয়া সম্ভব।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব মানুষকে প্রথমে আটককেন্দ্রে নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে, এরপর সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে বাংলাদেশ নাগরিকত্বের প্রমাণ ছাড়া এদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ফলে একদিকে ভারত থেকে বিতাড়নের চাপ, অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ না পেয়ে অনেকেই এক অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়েছেন। মরিয়া হয়ে অনেকে রাতের অন্ধকারে নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছেন।

কলকাতায় জন্ম নেওয়া ২০ বছরের আবদুল শেখ বলেন, তাঁর বাবা-মা দুই দশকেরও বেশি আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন। তাঁর কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। মা-বাবার মৃত্যুর পর এখন তাঁকে ভারত ছাড়তে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার সব আশা ভেঙে গেছে। আমি কীভাবে প্রমাণ করব আমি বাংলাদেশি, তা জানি না।’

তিন বছর আগে বাবার চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা রাজমিস্ত্রি আরিফুল সরদার বলেন, ‘আমরা অসহায় বোধ করছি। যেহেতু এটি সরকারি নির্দেশ, তাই আমরা ফিরে যাচ্ছি।’

আসামে আগে থেকেই জাতিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই শত শত মানুষকে সীমান্তের ওপারে ঠেলে পাঠানো হয়েছে বলে অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গেও একই পরিস্থিতির আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জোরপূর্বক বহিষ্কার ও সীমিত আইনি সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

বিএসএফের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, নদী পার হওয়া কঠিন নয়, তবে বর্তমানে সীমান্ত পাহারা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।