মামলা দায়েরের আগে আপসযোগ্য বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রম যশোরসহ ১০ জেলায় উদ্বোধন

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আপসযোগ্য বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে যশোরসহ দেশের ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) যশোর জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলাতেও একযোগে এ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়।

যশোরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান বেগম মাহমুদা খাতুন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থার জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তার ভাষ্য, মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন চালুর ফলে আদালতের মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, অযথা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের প্রবণতা হ্রাস পাবে এবং আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের মামলার জট অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়নে আগামী তিন মাস পর পুনরায় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাহমুদা খাতুন বলেন, মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন চালুর ফলে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আপসযোগ্য বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে আদালতের ওপর চাপ কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত, সহজ ও কার্যকরভাবে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন। জাতীয় আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে বিচার বিভাগ, আইনজীবী, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আলোচকেরা জানান, নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত সাত ধরনের বিরোধ বা অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে সংশ্লিষ্ট জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মেডিয়েশনের উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে পারিবারিক আদালত আইন, বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, দেওয়ানি আদালতের নির্দিষ্ট বিরোধ, ভূমিসংক্রান্ত আইন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন এবং যৌতুক নিরোধ আইনের অধীন বিরোধ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ড. আতোয়ার রহমান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলাম, স্পেশাল মিডিয়েটর ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ গাজী রহমান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ কাজী আক্তারুজ্জামান, সুধাংশু শেখর রায় ও শান্তনু কুমার মণ্ডল, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার নিশাত সুলতানা, সিনিয়র সহকারী জজ মো. তুহিনুল ইসলাম, মতিউর রহমান ও লাবনী ইয়াসমিনসহ জজশিপ ও ম্যাজিস্ট্রেসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) আব্দুল মোহায়মেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ গফুর, সিনিয়র আইনজীবী নজরুল ইসলাম, দেবাশীষ দাস এবং লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর আইনজীবী মোস্তফা হুমায়ুন কবিরসহ আইন অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।

আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর অধীনে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশের ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন কার্যক্রম চালু হয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের টোল-ফ্রি নম্বর ১৬৬৯৯-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।