ব্যবসায়ী সজল হত্যায় মামলা জড়িত সন্দেহে আটক ৪, জামায়াতের বিক্ষোভ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গায় ব্যবসায়ীয় নেতা ও জামায়াত কর্মী আমিনুল ইসলাম সজল হত্যার ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন নিহতের ভাই আজহারুল ইসলাম। হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে ৪ জনকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।
ওই মামলার আসামিরা হলেন, শহরতলীর খোলাডাঙ্গার আব্দুল আজিজের ছেলে সন্ত্রাসী কামরুজ্জামান ওরফে খোঁড়া কামরুল (৪৫), মাহাবুব মুন্সীর ছেলে টিটো (৩৬), টোকনের ছেলে স্মরণ (২৫), আলম সিদ্দিকের ছেলে লাবিব (২৬), তফজেলের ছেলে মুন্না (২৩) ও খড়কি স্টেডিয়াম পাড়ার আব্দুল মাজেদের ছেলে মুরসালিন (২৪)।
মামলায় আজহারুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, তার ছোটভাই সজলের খোলাডাঙ্গা সার গোডাউন সংলগ্ন গাজীর বাজারে হার্ডওয়্যার ও স্যানেটারির দোকান রয়েছে। উল্লিখিত আসামিদের সাথে সজলের পূর্ব থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। গত ৪ নভেম্বর সজল এশার নামাজ আদায়ের জন্য দোকান থেকে মসজিদে যাচ্ছিলেন। পথে খোলাডাঙ্গার জনৈক আইয়ুব গাজীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে পূর্ব বিরোধের জের ধরে আসামিরা তার ওপর চড়াও হন। এ সময় আসামি খোঁড়া কামরুল ছুরিকাঘাত করে। এরপর আসামি স্মরণ ও মুরসালিন ছুরিকাঘাত করলে সজল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন আসামি লাবিব ও মুন্না তার দুই পা ধরে রাখলে খোঁড়া কামরুল ও টিটোসহ তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা আসামিরা সজলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করেন। পরে তারা সজলের মৃত্যু নিশ্চিত করে সেখান থেকে চলে যান। কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয় লোকজন আসামিদের চলে যাওয়ার সময় চিনতে পারেন। এ ঘটনার পর আজহারুল ইসলামসহ অন্যরা সজলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে একাধিক সূত্র জানায়, সজল হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে বুধবার খোলাডাঙ্গা থেকে ৪ জনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। এদের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন, খড়কি স্টেডিয়াম পাড়ার বাবলু মোড়লের ছেলে আব্দুর রহমান সাগর, খোলাডাঙ্গার আসাবুর রহমানের ছেলে শাকিল ও একই এলাকার আল আমিন।
এ বিষয়ে ডিবি পুলিশের ওসি মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অপরদিকে দলীয় কর্মী আমিনুল ইসলাম সজল হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের আটকের দাবিতে শহরের মুজিব সড়কস্থ জেলা আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। সমাবেশে বক্তব্যে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যশোরের মানুষ সন্ত্রাসীদের কারণে অনিরাপদ ছিলেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও এখনও ওই সরকারের দোসররা রয়ে গেছেন। তারাই পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের কর্মী সজলকে হত্যা করেছে। সমাবেশ থেকে সজল হত্যার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের আটকে আগামী ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দেয়া হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল, নায়েবে আমীর বেলাল হোসাইন, সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাড. গাজী এনামুল হক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শামসুজ্জামান, মাওলানা রেজাউল করিম, অধ্যাপক শাহাবুদ্দীন বিশ্বাস, অধ্যাপক আবুল হাসিম রেজা, অ্যাড. শফিকুল ইসলাম, পৌর আমীর ইসমাইল হোসেন, সেক্রেটারি অ্যাড. আব্দুর রহমান সোহাগ, অধ্যাপক আব্দুল হক, আশরাফ আলী, ইমরান হোসেন, আবু ফয়সাল, আব্দুল কাদের, ছাত্র শিবিরের নেতা মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।