বেনাপোলে পণ্য রফতানিতে ১১ শর্ত

0

মনিরুল ইসলাম মনি, শার্শা(যশোর)॥ আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে অধিকতর গতি সঞ্চার, সময় হ্রাস, বাণিজ্য সহজীকরণসহ করদাতাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টমস হাউজ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমদানি-রফতানি পণ্য চালানের খালাস ত্বরান্বিতকরণ, রাজস্ব সুরক্ষার পরিবেশ তৈরি ও শুল্ককর ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। সেইসাথে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য রফতানিতে শর্ত দেওয়া হয়েছে।

এ বন্দর দিয়ে ৪০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের পণ্যের চালান কিংবা ২০ হাজার পিসের বেশি তৈরি পোশাক ( যেমন শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, আন্ডার গার্মেন্টস ইত্যাদি) পণ্যের চালান কায়িক পরীক্ষা করতে হবে। কায়িক পরীক্ষার অর্থ হলো, এতে পণ্যের চালান খুলে দেখা হয়। ঘোষণা দেওয়া পণ্যের সঙ্গে মিল আছে কি- না তা পরীক্ষা করা হয়।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার কামরুজ্জামান স্বাক্ষরে সোমবার বেনাপোল কাস্টম হাউস থেকে ১১টি শর্ত দিয়ে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

এ আদেশের ফলে নতুন করে আমদানি-রফতানিকারকদের ভোগান্তি বাড়বে বলে মনে করেন অনেক ব্যবসায়ী। সেই সাথে অর্থ আদায়ে নতুন নতুন খাতও সৃষ্টি হবে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৮০ ভাগ পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। সেইসাথে ভারতে পণ্য রফতানিও হয়। তবে ভারত হয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য রফতানি করতেও অনেকে এ বন্দর ব্যবহার করে থাকেন।

বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ একই আদেশে ১২ ধরনের আমদানি পণ্যকে সংবেদনশীল ও শুল্ক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলেছে। এর অর্থ হলো, এসব পণ্য আমদানিতে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার ঝুঁকি বেশি। এই পণ্যগুলো হলো অ্যাসর্টেড গুডস, সব ধরনের কাপড়, সকল প্রকার নতুন ও পুরনো মোটর পার্টস, (টু হুইলার, থ্রি হুইলার, ফোর হুইলার প্রভৃতি) বাইকের যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য,

প্রসাধনসামগ্রী, ইমিটেশন জুয়েলারি, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রেয়াতি সুবিধায় আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, শিল্প খাতের যন্ত্রাংশ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও অস্ত্রোপচারের সামগ্রী, একই চালানে পাঁচমিশালি পণ্য। এসব পণ্যের চালানও কায়িক পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।