মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত ও অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0
মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।” তিনি বলেন, “আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।”

প্রতিনিধি দল ও আলোচ্য বিষয়

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়াম প্রমুখ।

পারিবারিক ইতিহাস স্মরণ করে বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তাগুলো পেয়েছিলেন, তার একটি ছিল আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে, যিনি তখনই মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে তিনি আনন্দিত।

পিতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালের মালয়েশিয়া সফর এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের সফরের কথাও স্মরণ করেন তিনি। তিনি বলেন, এই সফরগুলো দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও তিন দলিল বিনিময়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দলিল বিনিময় করা হয়, যা দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।”

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেমিকন্ডাক্টর খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা ইস্যু ও আঞ্চলিক সহযোগিতা

োহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগদানেও আগ্রহী বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাগত জানাতে গর্ববোধ করবে।” মালয়েশিয়ার আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।”