বাড়ছে রোহিঙ্গা, কমছে বাজেট — ২০২৬ সালে জেআরপিতে বরাদ্দ ২৬ শতাংশ কম

0
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনসংখ্যার চাপ বাড়লেও দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সহায়তার পরিমাণ।। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে, কিন্তু তাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার বাজেট উল্টো কমে আসছে। ২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) ৭১ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে, যা ২০২৫ সালের বাজেটের তুলনায় সাড়ে ২৫ কোটি ডলার বা ২৬ শতাংশ কম। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘের দপ্তরে আয়োজিত এক সভায় এই তহবিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখ ৫০ হাজার। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল আট লাখ। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার নতুন শিশু জন্ম নিচ্ছে। পাশাপাশি মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির নির্যাতনের কারণে দেশটিতে থাকা বাকি রোহিঙ্গারাও বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশে পালিয়ে আসছে।

২০২৬ সালের জেআরপি অনুযায়ী, বর্তমানে চাহিদাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১৮ লাখ ৯০ হাজার। তবে এর মধ্যে তিন লাখ ৩০ হাজার মানুষ এই বাজেটের আওতার বাইরে থাকছে। সুবিধাভোগী হিসেবে ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৬০ হাজার জনকে — যার মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সাড়ে ১২ লাখ এবং স্থানীয় বাসিন্দা তিন লাখ সাত হাজার।

বরাদ্দের বিভাজনে দেখা যাচ্ছে, ৭১ কোটি ডলারের মধ্যে ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার রোহিঙ্গাদের জন্য এবং বাকি তিন কোটি ৬২ লাখ ডলার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য রাখা হয়েছে। খাত হিসেবে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে খাদ্য নিরাপত্তায় — ২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এই তথ্য জানান কক্সবাজারে শরণার্থী প্ল্যাটফর্মের প্রধান ডেভিড বাগডেন।

তুলনামূলক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে জেআরপি বাজেট ছিল ৮৫ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং সেবারে চাহিদাগ্রস্ত ১৬ লাখ ৫০ হাজার জনের মধ্যে ১৪ লাখ ৮০ হাজার এই তহবিলের আওতায় এসেছিল। এবার চাহিদাগ্রস্তের সংখ্যা বাড়লেও বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন জানান, চলতি বছরের মোট চাহিদার মধ্যে গত এপ্রিল পর্যন্ত ৬৩ শতাংশ তহবিল জোগাড় করা সম্ভব হয়েছে।

সভায় বক্তৃতা করেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক উপহাইকমিশনার কেলি ক্লিমেন্টস, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহকারী নির্বাহী পরিচালক রানিয়া দাগাশ কামারা এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী কেরোল ফ্লোরে।