বাগেরহাটে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল কম দেয়ার অভিযোগ

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর বাদশার বিরুদ্ধে ভিজিডির চাল কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।বস্তায় চাল কম থাকায় উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ বন্ধ করে গুদামে তালা লাগিয়ে দেন ট্যাগ অফিসার উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।
বুধবার (৩ মে) বেলা ১১টার দিকে কাকড়াতলী বাজারে অবস্থিত জিউধরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চাল বিতরণের সময় এই অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৫জন সদস্য।
সরকারি চাল কম দেয়ার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জিউধরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর বাদশাকে সর্তক করেন। কেন উপকারভোগীদের চাল কম দেয়া হলো সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
জিউধরা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য সাইদুল ইসলাম বলেন, ট্যাগ অফিসারের নির্দেশে কয়েকটি বস্তা পরিমাপ করা হয়। কোন বস্তায়ই ৩০ কেজি চাল ছিল না। ২৪ কেজি থেকে ২৭ কেজি পর্যন্ত চাল পাওয়া গেছে। পরিষদের সদস্য হিসেবে দরিদ্রদের মাঝে কম চাল বিতরণ না করার জন্যে অনুরোধ করলে চেয়ারম্যান আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। আমাকে মারধর করার হুমকি দেন।
৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোকছেদ আলী হাওলাদার বলেন, চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে রাতের আধারে বস্তা ছিদ্র করে চাল আত্মসাত করেছেন। প্রতি বস্তায় ৩ কেজি থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত চাল কম রয়েছে। আমরা সদস্যরা বিষয়টির প্রতিবাদ করলে তিনি ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলামসহ অন্যান্যদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন।
সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মায়া মন্ডল বলেন, শুধু চাল নয়, চেয়ারম্যান পরিষদে নানা ধরণের অনিয়ম করেন। আমাদের কোন কাজে সম্পৃক্ত করেন না। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সহস্রাধিক মানুষের কাছ থেকে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন। পানির ট্যাংকি বিতরণের রেজুলেশনে আমরা তেমন কেউ স্বাক্ষর করিনি। ইউপি সদস্য হারুণ হাওলাদারের স্বাক্ষর জাল করেছেন চেয়ারম্যান।
৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহজাহান মৃধা বলেন, চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর বাদশা টিআর, কাবিখা ও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে টাকা আত্মসাতসহ নানা ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতি করেন। তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়। চেয়ারম্যান আমাকেও একবার মারধর করেছেন। চেয়ারম্যানের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এই জনপ্রতিনিধি।
চাল বিতরণের সময় সরকারি ট্যাগ অফিসার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোরেলগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, বস্তায় চাল কম থাকায় আমি বিতরণ বন্ধ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, আমি কোন দুর্নীতি করিনা। চাল চুরির তো প্রশ্নই আসে না। আমার কয়েকজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এই ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পরে জিউধরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সতর্ক করা হয়েছে। যদি ওই ইউনিয়নের কোন উপকারভোগী নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে চাল কম পেয়ে থাকেন তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।