চুয়াডাঙ্গায় দুদিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলার উদ্বোধন

0
ছবি: সংগৃহীত।

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা ॥ ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ভবিষ্যৎ জীবন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে দুদিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলা। আজ বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

উদ্বোধন শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে একটি আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. মুন্সী আবু সাইফের সঞ্চালনায় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারি ট্রেজারি ফান্ডের মাধ্যমে পরিচালিত এই জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরাপদ। নাগরিকদের আমানত বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডে অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় থাকবে। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী যেকোনো নাগরিক ব্যাংকের মাধ্যমে এই স্কিমে সঞ্চয় করতে পারবেন এবং ৬০ বছর বয়স থেকে আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন।

তিনি আরও জানান, কোনো গ্রাহক ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে তার মনোনীত উত্তরসূরি বা নমিনি জমাকৃত টাকা লভ্যাংশসহ ফেরত পাবেন। গ্রাহকদের সুবিধার্থে আয়ের তারতম্য অনুযায়ী চাঁদার পরিমাণ কম-বেশি করার সুযোগও রয়েছে।

উন্নত বিশ্বের পেনশন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ৪ কোটি মানুষকে এই সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সরকার ইতিমধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তিনি প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে এই পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ কামরুল হাসান।

ছবি: সংগৃহীত।

এই মেলায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের স্টল স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া সমাজসেবা কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, হর্টিকালচার সেন্টার এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ ও নগদের স্টলও মেলায় অংশ নিয়েছে। আলোচনা সভার ফাঁকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।