যশোরে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: লক্ষ্য সাড়ে তিন লাখের বেশি শিশু

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে আগামী ২৮ জুন জেলাজুড়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় জেলার আটটি উপজেলায় মোট ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৪ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

বুধবার দুপুরে যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সিভিল সার্জন জানান, শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের শিশুদের মধ্যে এই ভিটামিন ঘাটতির প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তিনি মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, লাল শাক, পাকা কলা, মিষ্টি কুমড়া এবং পাকা আমের মতো দেশীয় ফল ও শাকসবজি খাওয়ালে শিশুদের দেহের এই ঘাটতি প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা পূরণ করা সম্ভব। তবে সুস্থ ও সবল প্রজন্ম গঠনে সরকারি এই নিখরচায় ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ৪৪ হাজার ৬১২ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩ লাখ ৯ হাজার ৬৫২ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে জেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ২১৭ জন কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। জেলাজুড়ে মোট ২ হাজার ৩০১টি কেন্দ্রে এই ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৯টি স্থায়ী কেন্দ্র, ২ হাজার ২৫৬টি আউটরিচ কেন্দ্র, ৩০টি অতিরিক্ত কেন্দ্র এবং ৬টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র থাকবে। কর্মসূচি তদারকি ও বাস্তবায়নে ১ হাজার ৩৮ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৪ হাজার ৪৭৯ জন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করবেন।

আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই টিকাদান কর্মসূচি চলবে। ওই দিন সকাল ৯টায় উপশহর শিশু হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই কর্মসূচির উদ্বোধন করতে পারেন। তিনি উপস্থিত থাকতে না পারলে যশোরের জেলা প্রশাসক এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. দিলদার হোসেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুস সাদিক এবং এমওসিএস ডা. মৌসুমী বিনতে মানিক।