প্রশ্ন ‘কমন’ না পড়ায় নকলের দাবিতে চরফ্যাশনে পরীক্ষা কেন্দ্রে তাণ্ডব; আহত ৮-১০, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল

0
আইসিটি পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ।। ছবি: সংগৃহীত
ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং নকল করার সুযোগ না পেয়ে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ব্যাপক তাণ্ডব ও ভাঙচুর চালিয়েছে পরীক্ষার্থীরা। আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে। এই হামলায় কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও শিক্ষকসহ অন্তত ৮-১০ জন আহত হয়েছেন।

কেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আজ ওই কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীদের আইসিটি পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এমসিকিউ ও লিখিত প্রশ্নপত্র ‘কমন’ পড়েনি এবং অত্যন্ত কঠিন হয়েছে। একপর্যায়ে পরীক্ষার্থীরা দেখাদেখি ও নকল করার দাবি জানালে দায়িত্বরত শিক্ষকেরা তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ শুরু করেন।

বেলা একটার পর পরীক্ষা শেষ হলে ৩-৪ শ শিক্ষার্থী ও বহিরাগত লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে কলেজে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে কলেজের পেছনের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা কলেজের মূল প্রশাসনিক ভবন, অধ্যক্ষের কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের জানালার কাচ ও দুটি এসি ভাঙচুর করে। এসময় তারা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালালেও শিক্ষকদের বাধায় তা ব্যর্থ হয়।

হামলায় ইটপাটকেলের আঘাতে কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিকদার হুমায়ুন কবির, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে কাঁদানে গ্যাসের দুটি শেল নিক্ষেপ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, দুই কলেজের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শিক্ষকেরা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর আচরণ করছিলেন, যার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোরভাবে নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে।

চরফ্যাশন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।