ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের পূর্ব বারান্দী মোল্লাপাড়ার সন্ত্রাসী শরিফুল ইসলাম জিতু (৪০) খুন হয়েছেন। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সুমন নামে এক দুবৃৃত্তকে আটক করেছে পুলিশ।

সুকরান বেগম নামে এক নারীর দাবি, তার পুত্রবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও নেশার টাকার জন্য পুত্রকে ছুরিকাঘাতের কারণে নিজেই জিতুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগ রয়েছে ওই নারী নিজেই মাদক ব্যবসায়ী। পুুলিশ বলছে, মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের কারণে খুন হয়েছেন শরিফুল ইসলাম জিতু।

এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে সুমন হোসেন ওরফে চোর সুমন নামে এক দুর্বৃত্তকে আটক করা হয়েছে।

গত বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে পূর্ব বারান্দী মোল্লাপাড়া ফুলতলার মোড় এলাকায় হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল ইসলাম জিতু একই এলাকার সিরাজুল ইসলাম সিরার ছেলে।

যশোর কোতয়ালি থানার ওসি মাসুম খান জানান, গত বুধবার রাত ১২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় শরিফুল ইসলাম জিতুকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলের কালনা সেতু এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা তাকে জানিয়েছেন।

ওইদিন রাতেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একই এলাকার লাল মিয়ার স্ত্রী সুকরান বেগম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাতে জিতু তাদের বাড়িতে জোর করে ঢোকেন। তার ছেলে সুমনের কাছে মাদকদ্রব্য কেনার জন্য টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না চাওয়ায় সুমনকে মারধর করে এবং চাকুর আঘাতে তার মুখের বাঁ পাশ জখম করেন। ছেলেকে বাঁচাতে তিনি (শুকরান বেগম) এগিয়ে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করেন জিতু।

ওই নারী দাবি করেন, একপর্যায়ে সন্ত্রাসী জিতু ঘরের ভেতরে তার ছেলে সুমনের স্ত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তিনি পুত্রবধূকে রক্ষা ও নিজেদের জীবন বাঁচাতে ঘরে থাকা দা দিয়ে জিতুকে আঘাত করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কোতয়ালি থানার ওসি মাসুম খান জানান, মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয়েছেন জিতু। তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। তাকে হত্যার সাথে জড়িত অভিযোগে সুমন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। সুমনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিহত শরিফুল ইসলাম জিতুর চাচা পরিবহন শ্রমিক নেতা রবিউল লবি জানান, কী কারণে কারা তাকে খুন করেছে তা তিনি জানেন না।

এদিকে নিহত শরিফুল ইসলাম জিতুর পিতা সিরাজুল ইসলাম নিজ ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, চুরি ও মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হয় জিতু।

নিহত শরিফুল ইসলাম জিতু-লোকসমাজ

নিহতের এক স্বজন জানান, জিতু মাদকাসক্ত। ওই বাড়িতে গিয়ে মাদকের টাকা আনতে গিয়ে খুন হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক সুমন চুরিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত। এ কারণে সুমন এলাকায় চোর সুমন নামে পরিচিত। তার মা সুকরান বেগম ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যবসা করেন। ওইদিন রাতে জিতু বাকিতে পাঁচ পিস ইয়াবা নিতে সুমনের মা সুকরান বেগমের কাছে যান। সুকরান বেগম বাকিতে ইয়াবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সুকরান বেগমের গলা চেপে ধরেন জিতু এবং তাকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে সুমনের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। তাকে রক্ষায় সুমন এবং তার মা ও ভাই জিতুকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে ঢাকায় জিতুকে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত জিতুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার কর্মকাণ্ডে পরিবারের সদস্যরাও অতিষ্ঠ হয়ে তাকে একাধিকবার পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

সর্বশেষ জানা যায়, মামলা দায়েরে বিলম্ব হওয়ায় হত্যায় জড়িত সুমনকে ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।