রামপালে যুবক আহাদ হত্যায় অভিযুক্ত চরমপন্থি মাসুম বিল্লাহসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার

0
বাগেরহাটের রামপালে যুবক আহাদ আহমেদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি সাবেক চরমপন্থি মাসুম বিল্লাহ ও তাঁর ভাই বাকি বিল্লাহ।। ছবি: লোকসমাজ

এম, এ সবুর রানা (রামপাল, বাগেরহাট) ॥ বাগেরহাটের রামপালে জমির পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে যুবক আহাদ আহমেদ ইতুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (সর্বহারা) সাবেক সদস্য ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি ইসলামাবাদ গ্রামের মো. মাসুম বিল্লাহ (৫০), তাঁর ভাই মো. বাকি বিল্লাহ (৪৫) এবং মাসুম বিল্লাহর স্ত্রী মনিরা বেগম (৫৫)।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রাজীব আল রশিদ জানান, গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় আহাদ আহমেদ ইতু নিহত হন। একই হামলায় আহাদের বাবা শেখ ফরিদুজ্জামান গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই মিতু বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের আগেই পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে অভিযানে নামে। সোমবার সন্ধ্যায় রামপাল থেকে মনিরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং এসআরবি-৬ খুলনার সহযোগিতায় খুলনার ফুলতলা এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ ও তাঁর ভাই বাকি বিল্লাহকে আটক করে এসআরবি। মঙ্গলবার সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের রামপাল থানায় হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানায়, আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

ঘটনার স্থান ও স্থানীয় সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, রামপালের ইসলামাবাদ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জমির পানি সরানো নিয়ে আহাদের পরিবারের সাথে মাসুম বিল্লাহদের বিরোধ চলছিল। সোমবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা থেকে পানি নিষ্কাশন নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে চাচাতো ভাই বাকি বিল্লাহ ও মাসুম বিল্লাহ লোহার রড দিয়ে সজোরে আহাদের বুকে আঘাত করেন। এতে আহাদ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় বাঁচাতে এলে আহাদের বাবা ফরিদুজ্জামানকেও বেধড়ক কুপিয়ে জখম করা হয়। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই আহাদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত বাবাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ সাবেক বিএনপি নেতা ও বাইনতলা ইউপি চেয়ারম্যান সরদার হাবিবুর রহমান এবং সাবেক ৪ দলীয় জোটের বাগেরহাট-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা গাজী আবু বকার সিদ্দিক হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।