‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ — অডিও ভাইরালের পর ওসি প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন

0
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার পর প্রত্যাহার হওয়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম।। ছবি: সংগৃহীত

‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ — নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেমের এই বক্তব্যসহ ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার রাত আটটার পর ছড়িয়ে পড়া এই অডিও ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই ওসিকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

যা বললেন ওসি

অডিও রেকর্ডে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’

একই অডিওতে তিনি আরও বলেন, কনস্টেবলরা যেন তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হয়। ‘হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ, যারা হক মারে, রাসুল তারে সাফায়েত করবে না’ — এই বলে ধর্মের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। পাশাপাশি সতর্ক করেন, ‘বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে’, তাই কেউ যেন চালাকি না করেন।

‘এ রকম কথা আমি বলিনি’

তবে অডিও নিয়ে জানতে চাইলে ওসি আবুল হাশেম বলেন, ‘কীভাবে এই বক্তব্য এসেছে, আমি তো জানি না। এ রকম কথা তো আমি কোথাও বলিনি। আমার তো মনে হয় না, এমন কথা আমি কোথাও বলেছি।’

প্রত্যাহার ও তদন্ত কমিটি

জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম রোববার সকালে জানান, অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ওসি আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।