পুরনো চেহারায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাসী হামলায় একজন ফলাবিদ্ধ, ছুরিকাহত ৩ জন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেখ হাসিনার পলায়নের পর গা ঢাকা দেওয়া আওয়ামী সন্ত্রাসীরা স্বরূপে আবির্ভূত হতে শুরু করেছে। চিহ্নিত নেতারা পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন আর পাড়া মহল্লার ক্যাডাররা ভোলপাল্টে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকা- করছেন। যশোরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে একজনকে ত্রি-ফলাবিদ্ধ করা হয়েছে। ছুরিকাহত হয়েছে আরো ৩ জন। এসব কর্মকা-ে জড়িত সন্ত্রাসীরা যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার আওয়ামী নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।

সূত্র জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের কাগমারী গ্রামে মো. আরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে একজনকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ত্রি-ফলা দিয়ে আঘাত করে। পরে ত্রি-ফলাবিদ্ধ অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সার্জারি অপারেশনের মাধ্যমে তার শরীর থেকে ত্রি-ফলা অপসারণ করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের মডেল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরিফুল ইসলাম ওই কাগমারী গ্রামের রুহুল আমিনের পুত্র। আরিফুল ইসলাম ও তার স্বজনরা জানিয়েছেন, ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে বনমান্দার বিল অবস্থিত। এ বিলের জমি দখলে নিয়ে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদার সেখানে মাছ, চাষ, হাঁস-মুরগির ফার্মসহ অনেক কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। ব্যবসা পাহারা দেওয়ার জন্য দলীয় সন্ত্রাসীদের অনেককেই নিযুক্ত করেছেন।

এতে তাদের বিলে আশ্রয়ও হয়েছে, আবার চাকরিও হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন কাগমারী গ্রামের বিএনপি সমর্থক জোবায়ের নামে এক কর্মচারী। বিএনপি সমর্থক হওয়ায় তার মাসিক বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার সকালে ওই হাঁস-মুরগির ফার্ম থেকে অন্য কর্মচারীরা ডিম নিয়ে বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন। তখন জোবায়ের তাদের বাঁধা দেন এবং বেতন না দিলে ডিম বিক্রি করতে দেওয়া হবে না বলে জানান।

তখন ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের রক্ষক হিসেবে কর্মরত আওয়ামী লীগ সমর্থক সাত্ত্বাব, ইমদাদ ও সাদ্দামরা মিলে জোবায়েরকে বেধড়ক মারধর করে। এ নিয়ে কাগমারী গ্রামের মেম্বার হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে সালিশ বসে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রহমানের বাড়িতে ডাকা ওই সালিশে জোবায়ের হোসেনের পক্ষে আরিফুল ইসলাম উপস্থিত হন। তখন শাহীন চাকলাদারের পোষ্য সন্ত্রাসী সাত্ত্বাব, ইমদাদ ও সাদ্দাম মিলে ত্রি-ফলা দিয়ে আরিফুল ইসলামের পশ্চাদদেশে আঘাত করেন।

৩টি শলা বিদ্ধ আরিফুল ইসলামকে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ভর্তি করার পর দ্রুত তাকে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের সময় তার শরীর থেকে ফলা বের করা হয়। বর্তমানে আরিফুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা গুরুতর।

অপরদিকে, শুক্রবার বিকেলে যশোর সদর উপজেলার ৪নং নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাগলাদহ গ্রামে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে শহীদ(৩৩) তার পুত্র রাকিব হোসেন(১৫) ও ভাইপো সাকিব হোসেন(১৫) ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শহীদ জানিয়েছেন, বিকেল ৪টার দিকে তিনি তার মোটরসাইকেলে মাঠে যাচ্ছিলেন। পাগলাদহ ব্রিজের কাছে পৌঁছুলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে নিচে রাস্তার ওপর পড়ে যান। এ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ওই গ্রামের আমিনুর রহমানের পায়ে সামান্য আঘাত লাগে।

তখন আমিনুর রহমান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শহরের পুরাতন কসবা এলাকা থেকে মোবাইল ফোন করে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী ডেকে আনেন। তাদের উপস্থিতিতে আমিনুর রহমান, মতি ড্রাইভার ও রাশেদ মিলে শহীদকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তার ছেলে রাকিব হোসেন, ভাইপো সাকিব মিলে শহীদকে উদ্ধার করতে গেলে তারা ওই ছুরিকাহত হন। বিকেল ৫টার দিকে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। শহীদ জানিয়েছেন, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ নেতা পুরাতন কসবার জাহিদুর রহমান ওরফে টাক মিলনের লোক।