ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ে সমকামিতার অভিযোগ: শৃঙ্খলাবিধিতে নেই সুনির্দিষ্ট বিধান, নীতিমালার চিন্তা

0
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও মাস্টারদা সূর্য সেন হলে সম্প্রতি দুটি আলাদা কক্ষে বহিরাগত ও অতিথিদের বিরুদ্ধে সমকামিতায় জড়ানোর অভিযোগ সামনে আসার পর ক্যাম্পাস জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক শাস্তির বিষয়টি সামনে এলে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শৃঙ্খলাবিধিতে সমকামিতার বিষয়ে আলাদা করে কোনো সুস্পষ্ট শাস্তির বিধান নেই।

১৯৭৩ সালে প্রণীত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ’ এবং হল-সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, অতীতে এ ধরনের সমস্যা জোরালোভাবে সামনে না আসায় মূল শৃঙ্খলাবিধিতে এর উল্লেখ বা আলাদা শাস্তির প্রয়োজন হয়নি।

সাধারণত অসদাচরণ, শৃঙ্খলাভঙ্গ, ক্যাম্পাসের পরিবেশ বিনষ্ট বা আবাসিক হলের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করে থাকে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সতর্ক করা, আসন বাতিল, হল বহিষ্কার কিংবা সাময়িক বা স্থায়ী বহিষ্কারের প্রশাসনিক সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া দেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় ‘প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন মিলনকে’ অপরাধ গণ্য করা হলেও তার প্রয়োগ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।

ক্যাম্পাসে প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুলাই মাস্টারদা সূর্য সেন হলে। হল প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এক আবাসিক শিক্ষার্থী হলের কক্ষে ‘সমকামিতার উদ্দেশ্যে’ এক বহিরাগতকে নিয়ে আসলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁদের ধরে ফেলে। পরে দুজনকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয় এবং ওই শিক্ষার্থীর হলের আসন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করে আজীবন বহিষ্কার করা হয়।

সূর্য সেন হলের প্রাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিতে ‘নৈতিক স্খলনের’ জন্য বহিস্কারের যে ক্ষমতা প্রাধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছে, সমকামিতার ঘটনা সেই নৈতিক স্খলনের আওতাতেই পড়ে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে গত ১ আগস্ট ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে। সেখানে হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও শিবির নেতা ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে থাকা দুজন অতিথির বিরুদ্ধে একই অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৭ জুলাইয়ের একটি ভিডিওতে ওই দুই তরুণকে অপকর্ম স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় হল প্রশাসন এজিএস ইব্রাহীম খলিলের আসন সাময়িকভাবে বাতিল করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে ইব্রাহীম খলিল দাবি করেন, ঘটনাটি তাঁর কক্ষে ঘটলেও তিনি আগে থেকে এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। ঘটনার তদন্ত চলাকালে গত রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হন।

পরপর দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে সমকামিতায় জড়িত হলে শাস্তির বিষয়টি স্পষ্ট করতে নতুন নীতিমালার চিন্তা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সমকামিতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় আলাদা করে কোনো শাস্তির বিধান নেই। ভবিষ্যতে একটি নীতিমালা করা হবে।” একই কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীও।