দীর্ঘ আট বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি হৈবতপুরের প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় : ১৩ শিক্ষক-কর্মচারীর মানবেতর জীবনযাপন

0

 

চুড়ামনকাটি (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের নাটুয়াপাড়া রফি উদ্দিন অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ১৩ শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারি সকল নিয়ম মেনে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ৮ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি। বেতন ভাতা ছাড়াই ১৫৮ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছেন শিক্ষক ও শিক্ষিকাগণ।
নাটুয়াপাড়ার শিক্ষানুরাগী রফি উদ্দিন ২০১৪ সালে নিজ জমিতে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল চালু করেন। তিনি প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। তার এ কাজে সহযোগিতা করে স্কুলটির হাল ধরেন তার ছেলে হাবিবুর রহমান,স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক ও শহীদ পারভেজ। তারা নিরলসভাবে স্কুলটির সার্বিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে স্কুলটিতে ১৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে ১৫৮ জন।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়,শিক্ষার্থীদের জন্য নেই তেমন ভালো কোনো ক্লাসরুম। ছোট ছোট টিন শেডের ৬টি কক্ষে ক্লাস নেওয়া হয় তাদের। শিক্ষকদের জন্য রয়েছে ছোট একটি অফিস রুম। ক্লাস রুমের উপরের টিনগুলো ছিদ্র। একটু বৃষ্টি হলেই ক্লাসরুমে পানি জমে। ফলে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েন শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক জানান, সব শ্রেণির বই উপজেলা থেকে দেওয়া হয় এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব খরচে শিক্ষার্থীদের খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের নিজস্ব গাড়িতে করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আনা নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন,সরকার বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করতে যে নীতিমালা দিয়েছে তার পুরোটায় আমাদের আছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন,নিজ খরচে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ভর্তি সর্ম্পকে তিনি বলেন, যাদের উপজেলা থেকে প্রতিবন্ধীর কার্ড আছে তারাই এখানে ভর্তির সুযোগ পায়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহসিনা পারভিন বলেন,প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবা দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। তিনি দ্রুত বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। রোকেয়া নামের এক প্রতিবন্ধী শিশুর মা বলেন,আমার সন্তানসহ যারা এখানে পড়ালেখা করে তাদের খুবই যতœ সহকারে দেখাশুনা করেন এখানে শিক্ষকরাপ।
রোববার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে,স্কুলে চলছে জাতীয় সঙ্গীত। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পড়ছেন। আবার সুন্দর মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় ডিসপ্লে। যার নেতৃত্বে দিচ্ছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা। যাদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে এরা প্রতিবন্ধী।
হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক জানান,বিদ্যালয়টি সুনামের সাথে এলাকার প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। তিনি দ্রুত বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তের দাবি জানান।
এদিকে,রবিবার বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান যশোর সদর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ দেখে সন্তেষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তের জন্য তিনি তার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।