কালীগঞ্জে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

0
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি চলাকালে সাবেক পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে আটক করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা ও সাবেক পৌর মেয়রকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জ পৌর শহরের আড়পাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজু নিজ বাসভবনের নিচতলায় কেক কাটা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। দলীয় এই কর্মসূচির খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচিতে বাধা দেয়।

একপর্যায়ে পুলিশ মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত নেতাকর্মী, স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলে লিপ্ত হন। এই ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পুলিশের হাত থেকে বিজুকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তবে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রথমে অস্বীকার করেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বিজু সেখান থেকে পালিয়ে যান। পালানোর সময় তাঁর একটি মোবাইল ফোন পড়ে যায়, যা বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তবে পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের ছবি ও তথ্যপ্রমাণ দেখানোর পর ওসি বলেন, “যদি পুলিশের উপস্থিতিতে কোনো আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” পুরো ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।