ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চলছেই, বৈঠকে বিজিবি-বিএসএফ; দিল্লির আলোচনায় ‘অবৈধ পুশ ইন’

0
নয়া দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন শুরু; আলোচনায় ভারতের 'অবৈধ পুশ ইন' ।। ফাইল ছবি (সংগৃহীত)

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) একের পর এক পুশ ইনের চেষ্টা অব্যাহত রাখার মধ্যেই গতকাল সোমবার নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন। বিএসএফ সদর দপ্তরে শুরু হওয়া এই চার দিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হবে আগামী বৃহস্পতিবার।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীন কুমারের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ১২ জন।

আলোচ্যসূচিতে যা আছে

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের সম্মেলনে ‘অবৈধ পুশ ইন’ বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যা, আহত ও নির্যাতন বন্ধ; ভারত থেকে মাদক, অস্ত্র ও নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান রোধ; মানব পাচার প্রতিরোধ; এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অননুমোদিত অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের দাবি জানানো হবে।

বিজেপির ‘থ্রি-ডি’ নীতি ও পুশ ইনের প্রেক্ষাপট

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি দাবি করেছেন, অন্তত ৪ হাজার ৮৮০ জন ‘তথাকথিত বাংলাদেশি’কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর বাইরে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বছর মার্চে নতুন বহিষ্কার নীতি প্রণয়ন করে সব রাজ্যে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার সব ধরনের অবৈধ পুশ ইন প্রতিহত করতে প্রস্তুত। তবে এসব সমস্যা প্রাথমিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পুশ ইন বন্ধে ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম না মেনে পুশ ইনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, চলমান পুশ ইন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উত্তরণের চেষ্টার সহায়ক নয়।

বাংলাদেশ ভারতের দেওয়া ২ হাজার ৮৬২ জনের তালিকার মধ্যে ৬৩৪ জনকে ট্রাভেল পারমিট দিয়েছে এবং ৩৬১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হলে তাঁদেরও পারমিট দেওয়া হবে।

মাঠে এখন বিজিবি-আনসার-গ্রামবাসী

পুশ ইন ঠেকাতে ২৬ জেলার সীমান্তে ৬০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির পাশাপাশি ১১টি জেলায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাম্প্রতিক ঘটনায় নওগাঁর পোরশায় বিএসএফ ১৫-২০ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ও আনসারের পাশাপাশি লাঠিসোঁটা-লাইট হাতে গ্রামবাসীও অবস্থান নেন। বিজিবি, আনসার ও এলাকাবাসীর অনড় অবস্থানের মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়। কুড়িগ্রামের রৌমারী ও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তেও একই ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্তে আটকে থাকা ১১ জন এবং পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে ৬৯ ঘণ্টা আটকে থাকা ১০ জনকে অবশেষে ভারতের দিকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।