আটক হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাড়া পেয়েই ফের যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীরা

0
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমর্থকদের আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশ এক নারী বিক্ষোভকারীকে আটক করছে।। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দমন-পীড়নের পর মুক্তি পেয়েই পুনরায় বিক্ষোভস্থলে ফিরছেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ব্যানারে গড়ে ওঠা এ আন্দোলনে যোগ দিতে সারা দেশ থেকেই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন।

গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর থেকে রাইসিনা মার্গ হয়ে লোকসভা ভবনের দিকে যাত্রা শুরু করলে দিল্লি পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা করে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে। সেসময় স্থানটি থেকে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।

তবে আটকের ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাড়া পেয়ে অনেক বিক্ষোভকারী সরাসরি থানা থেকেই পুনরায় যন্তর মন্তরে ফেরেন। গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে সংগঠনটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সোমবার আটক সবাইকে পুলিশ মুক্তি দিয়েছে বলে ঘোষণা দিলে এলাকাটিতে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে।

মুক্তিপ্রাপ্তদের একজন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন লার্নিংয়ের ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সমীর দোরওয়াল জানান, তলস্তয় রোড থেকে আটকের পর তাঁকে মন্দির মার্গ থানায় রাখা হয়েছিল। পাঁচ হাজার রুপির বন্ডে জামিন পেয়েই তিনি সোজা যন্তর মন্তরে উপস্থিত হন। পরিবারের অগোচরে আন্দোলন করলেও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া আইপি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্ধার্থ জানান, সোমবারের ঘটনা তাঁর সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

অন্যদিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণা অভিযোগ করে, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নেওয়ার সময় নারী পুলিশ সদস্যরা তার চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন। কৃষ্ণার মা ৩৮ বছর বয়সী সীমা যাদব জানান, আলিগড় থেকে এসে গুরুদুয়ারায় অবস্থান নেওয়া এ মা-মেয়েকে আলাদা করে পুলিশ তাঁর ওপরও বলপ্রয়োগ করে, যার ফলে তিনি একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। পুলিশের এমন মারমুখী আচরণ সত্ত্বেও তাঁরা পুনরায় আন্দোলনস্থলে ফিরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সাথে দেখা করার অপেক্ষায় রয়েছেন।